রাজশাহীতে শিশু যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন ও গ্রাম্য চিকিৎসক ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে পাকারমাথা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিজ বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতেই শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। তাঁর বড় ভাই আবু বক্কর একই ওয়ার্ডের জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমান স্থানীয়ভাবে ক্বারী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২২ দিন আগে প্রতিদিনের মতো শিশুটি পড়তে গেলে একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীদের কৌশলে বিদায় করে দেন ওমর ফারুক। পরে শিশুটিকে একা পেয়ে তার শরীরে অনৈতিক স্পর্শ করে যৌন হয়রানি করেন। বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে পুরো ঘটনার কথা জানায়।
শিশুটির মা বলেন, শিক্ষকতার মতো একটি বিশ্বাসের জায়গায় এমন ঘটনার শিকার হতে হবে, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। পরে বিষয়টি অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমানকে জানালে তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমর ফারুক ও তাঁর পরিবার। ওমর ফারুকের দাবি, শিশুটি মূলত তাঁর স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। ঘটনার দিন তাঁর স্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করেননি। তাঁর বাবা মজিবুর রহমানও অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন বলেন, ওমর ফারুক তাঁদের সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।











