ঢাকা | জুলাই ২৯, ২০২৬ - ১০:৩০ অপরাহ্ন

রাকসু ভিপি ও জিএসের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাবিতে সংবাদ বয়কট, নিন্দা ও তদন্তের দাবি

  • আপডেট: Wednesday, July 29, 2026 - 10:11 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হুমকি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং এখতিয়ারবহির্ভূত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক তিন সাংবাদিক সংগঠন রাকসুর সব কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি পৃথক বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন আরটিজেএ এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন নিশ্চিতের দাবিতে উপাচার্য বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’।

বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) যৌথভাবে এক প্রতিবাদলিপিতে সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেয়।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ট্যাগিং দেওয়া ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদলিপি বা আইনি প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে, কিন্তু নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার, ছাত্র সংসদের নয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

এদিকে পৃথক বিবৃতিতে একই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ)। সংগঠনটির নেতারা জানান, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা সাংবাদিকদের মৌলিক দায়িত্ব। সত্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদে কারও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলেও তা সাংবাদিকতারই অংশ। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন পেশাগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং রাকসু ভিপির ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন।

অন্যদিকে, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে উপাচার্য দপ্তর বরাবর লিখিত বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক রাবি শাখা। বিবৃতিতে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, গত ২৭ জুলাই রাকসু জিএস ও শিবির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন। পরবর্তীতে তাঁদের দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রক্টর অফিস, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং এমনকি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়েও আহতদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর রাকসু নির্বাচন হলেও নির্বাচনের পর থেকে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তাঁর সহযোগীরা বারবার আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। এমনকি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার সময়ও রাকসুর ভিপি ও জিএসকে উসকানি দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করা জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী উল্লেখ করে তাঁরা অপরাধীদের শাস্তির দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম স্মারকলিপি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্যাম্পাসের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।