ঢাকা | জুলাই ২৯, ২০২৬ - ১০:৩০ অপরাহ্ন

পদ্মায় নৌকাডুবির ৩৩ ঘণ্টা পরও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ বাবা-ছেলের

  • আপডেট: Wednesday, July 29, 2026 - 10:25 pm

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা নদীতে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনার গতকাল বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত ৩৩ ঘণ্টা অতিক্রম হলেও নিখোঁজ বাবা আফছার আলী (৬০) ও ছেলে জিয়ারুল ইসলামের (৪০) কোনো সন্ধান মেলেনি।

তাঁদের উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের মতো পদ্মায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

এদিকে নিখোঁজ আফছার আলী ও জিয়ারুল ইসলামের পথচেয়ে নদীর পাড়ে ও বাড়িতে অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা। পবা উপজেলার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকার তাঁদের নিজ বাড়িতে এখন শুধুই স্বজনদের কান্না আর শোকের মাতম। একই পরিবারের দুজনকে হারিয়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে নদী থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় করে নিয়ে আসার পথে পদ্মার চরখানপুর সংলগ্ন বড়কুঠি এলাকায় প্রবল স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম নদী থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তীব্র স্রোতে ভেসে যান আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিখোঁজ জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম বলেন, পানিতে তলিয়ে গেলে তো মানুষ ভেসে ওঠে। কিন্তু ৩৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ওদের পাওয়া গেল না। জানি না আল্লাহ ওদের সাথে শেষ দেখা করাবেন কিনা।

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ফরহাদ হোসেন জানান, নদীতে প্রবল স্রোত রয়েছে। সকালে অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও নৌকা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় দুপুরের দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। বিকেল পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নদী ও আবহাওয়া বিবেচনায় সন্ধ্যার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। রাতের মধ্যে সন্ধান পাওয়া না গেলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে। স্রোতের তীব্রতার কথা বিবেচনায় রেখে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বড়কুঠি ঘাটসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল ও ডাউনস্ট্রিম এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।