ঢাকা | জুলাই ২৯, ২০২৬ - ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

মান্দার ‘ভাইরাল বটগাছ’ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

  • আপডেট: Tuesday, July 28, 2026 - 9:50 pm

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মান্দা উপজেলার একটি প্রাচীন বটগাছের ভেঙে পড়া ডাল অপসারণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে পড়া একটি শুকনো ডাল সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও সেটিকে গাছ কেটে বিক্রি করার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের বৈশলিং গ্রামের মাঠে অবস্থিত প্রায় ৪০০ বছর পুরোনো বটগাছটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ঐতিহ্য বহন করছে। বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতার ভিডিওর মাধ্যমে গাছটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল বটতলা’ নামে পরিচিতি পায়।

স্থানীয়রা জানান, বয়সের কারণে গাছটির কয়েকটি ডালপালা শুকিয়ে গেছে। গত রোববার সকালে একটি বড় শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে বৈশলিং গ্রামের মোড় থেকে ঘাটকৈর গ্রামে যাওয়ার সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে গ্রামের কয়েকজন যুবক ভাঙা অংশটি অপসারণ করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে অপসারণ করা অংশ সেখানেই রাখা হয়েছে।

তবে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা গাছটি কেটে বিক্রি করেছেন এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি ভিত্তিহীন দাবি করে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভাইরাল বটতলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈশলিং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ, পশুচিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লোকমান হাজারী, আব্দুল লতিফসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, বটগাছটি এলাকাবাসীর প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক। মাঠে কাজের ফাঁকে কৃষকেরা এই গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেন। কৃষকদের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসন সেখানে একটি শেডও নির্মাণ করেছে। তাঁরা আরও বলেন, গাছটির বয়স বেশি হওয়ায় কিছু অংশ স্বাভাবিকভাবেই শুকিয়ে গেছে। ভেঙে পড়া ডালটি সরিয়ে কেবল চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। অথচ একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। বক্তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, খবর পাওয়ার পর ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে গাছের কাটা অংশগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হবে।