ঢাকা | জুলাই ২৯, ২০২৬ - ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ফ্যামিলি কার্ডে কর্মী নিয়োগে রাজনৈতিক চাপ, যথাযথ বিধি মানার বার্তা প্রশাসনের

  • আপডেট: Tuesday, July 28, 2026 - 10:24 pm

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের পছন্দের প্রার্থী তালিকা গ্রহণ ও কোটা দাবির কারণে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। কোনো কোনো উপজেলায় কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করা এমনকি বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে রাজশাহী জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ধরনের সুপারিশ বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা মেনেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সম্প্রতি তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে তাঁর নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে আলাদা কোটা দাবি করেন ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং ইউএনও ঘটনাটি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। তবে ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম কোটা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা কোনো দলীয় কোটা চাননি বরং যোগ্য কর্মীদের মূল্যায়নের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাঘা উপজেলায় স্থানীয় নেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তালিকা তৈরি করতে রাজি না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আকতারের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর কিছুদিন পর শাম্মী আকতারকে বাঘা থেকে নওগাঁর রাণীনগরে বদলি করা হয়। অবশ্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ দাবি করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগের জন্য নয়, বরং সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বাগমারা উপজেলাতেও। যেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডিএম জিয়াউর রহমান পছন্দের তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে ইউএনওকে চাপ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে জিয়াউর রহমান এটিকে চাপ হিসেবে না দেখে সাধারণ দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য সুপারিশ বলে দাবি করেছেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একাধিক আবেদনকারীর অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশকে বেশি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সুশাসন বিশেষজ্ঞ সুব্রত পাল সাংবাদিকদের জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো সংবেদনশীল প্রকল্পে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠলে জনমনে আস্থা নষ্ট হয়। তাই বিতর্ক এড়াতে আবেদনকারীদের প্রাপ্ত নম্বর, মেধাতালিকা ও চূড়ান্ত নির্বাচন পদ্ধতি জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। অন্যদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রাজশাহী জেলা সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প। তাই স্থানীয় নেতাকর্মীদের নানা দাবি থাকলেও এখানে কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রাহ্য করা হবে না। শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই তথ্য সংগ্রহকারী বাছাই সম্পন্ন করা হবে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস