ঢাকা | এপ্রিল ৩০, ২০২৬ - ১:২৯ পূর্বাহ্ন

বাঘায় দানিশ মন্দের মাজারের দানবাক্সে টাকা বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

  • আপডেট: Wednesday, April 29, 2026 - 9:14 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দের (রহ.) মাজারে ভক্তদের দেয়া মানত ও নজরানার টাকার স্তূপ জমেছে। নিয়মিত সংগ্রহ ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এসব কাগজের নোট বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার সরেজমিন মাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাজারের ভেতরে বিপুল পরিমাণ কাগজের নোট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ছাদঢালা মাজারটি চারদিক থেকে জাল (নেট) দিয়ে ঘেরা থাকলেও স্তূপ হয়ে থাকা টাকা বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। সেখানে ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটের প্রাধান্যই বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব টাকা গণনা না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জালের ভেতর দিয়ে পানি ঢুকে এসব টাকা পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মাজারটি বর্তমানে বাঘা হজরত শাহ দৌলা (রহ.) ওয়াক্ফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত। মাজারের মূল চত্বর ছাড়াও আশপাশে আরও পাঁচটি দানবাক্স রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বাক্সও কয়েক মাস ধরে খোলা হয়নি।

ওয়াক্ফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মাজারের অর্থ উত্তোলনের জন্য একটি যৌথ হিসাব ও দ্বৈত চাবি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কমিটির সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে এই চাবি থাকে, ফলে এককভাবে কারও পক্ষে দানবাক্স খোলা সম্ভব নয়। সর্বশেষ দেড় মাস আগে দানবাক্স ও মাজারের ভেতর থেকে যথাক্রমে ৫৭,০৪১ টাকা এবং ৭১,০৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তবে বিশেষ ধর্মীয় দিবস বা ওরস মৌসুমে এই দানের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মানোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাজারের ভেতরে বর্তমানে যে পরিমাণ টাকা জমে আছে, তার বাজারমূল্য লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে। দ্রুত এগুলো সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

ওয়াক্ফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) জানান, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তির কাজে ব্যয় করা হয়। নিয়মিত অডিট বা হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়।

মাজারে আসা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভক্ত আনোয়ার হোসেন জানান, মানত পূরণ হওয়ায় তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, বিশেষ করে শুক্রবার এখানে ভক্তদের সমাগম বেশি হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ওয়াক্ফ কমিটির সহসভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, মাজারের আয়-ব্যয় অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর পর টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে খুব শিগগিরই দানবাক্সগুলো খোলা হবে।

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তাঁর পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, এই পবিত্র স্থানের গুরুত্ব বজায় রাখতে সময়মতো দান সংগ্রহ ও তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।