১৫ লাখের বেশি পরিবার বিএমডিএ’র উপকারভোগী
স্টাফ রিপোর্টার: উত্তরবঙ্গের কৃষক, মাটি ও পানির সাথে বেশি সম্পর্ক রয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ)। প্রায় ১৫ লাখের বেশি পরিবার এই সরকারি সংস্থাটির সাথে জড়িত। মানুষ, মাটি ও পানির নাড়ীর সেতু বন্ধন বিএমডিএ দিয়ে হলে এলাকা দেশ মানুষ প্রকৃতি ভারসাম্য থাকবে বলে জানিয়েছেন উপকার ভোগী মানুষ ও বিএমডিএ।
রাজশাহী জেলার গোড়াগাড়ী উপজেলার কদমশহর গ্রামের বাসিন্দা মামুন সরকার বলেন, শুধু খাল নয় পানির উন্নয়নের কাজ বরেন্দ্রকে (বিএমডিএ) দিয়ে করালে সঠিকভাবে কাজটি হবে। কেন বলি, আমরা দেখছি মরুময় এলাকা থেকে এলাকাকে সবুজ প্রকৃতি করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বাস্তব জ্ঞান রয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার নেজামপুরের বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল (৬০) বলেন, প্রতিদিন সকাল হলেই বিএমডিএ -এর সরবরাহ করা পানি পান, জমি ও বাগান ইত্যাদিতে ব্যবহার শুরু হয়। ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত একই নাম জপতে হয় বলতে পারেন। তাই তাদের দিয়ে কৃষির উন্নয়নের স্বার্থে খাল খনন তথা পানির ব্যবস্থাপনার কাজ করালে কৃষির উন্নয়ন হবে।
বিএমডিএ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ রিজিয়ন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ততথ্য, বিএমডিএ বরেন্দ্র এলাকার মরু প্রায় জমিকে সেচের আওতায় এনে চাষযোগ্য করার জন্য ১ হাজার ৬৩৯টি ফোর্স মোড পাম্প স্থাপন করেছে। ফলে যেসব জমিতে আগে বছরে মাত্র একটি ফসল হতো, সেখানে এখন প্রতি বছর প্রায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে তিনটি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে এবং এতে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত হচ্ছে।
শুধু মাটির নিচের পানি নয়, বরং নদী ও খালের পানিকে পাম্পের মাধ্যমে তুলে সেচ কাজে ব্যবহারের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং অদ্যাবধি ৮৮টি এলএলপি মহানন্দা নদী, পুনর্ভবা নদী ও বিভিন্ন খালে স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করেছে এবং প্রায় ১২ হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত হচ্ছে। বিএমডিএ’র সেচযন্ত্রের আওতায় প্রতি বছর ৬ লাখ ৫০ হাজার মে:টন ফসল উৎপাদন হয় যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। সকল সেচযন্ত্রে সেচ কাজে পানির অপচয় রোধে এবং কৃষকদের বিল পরিশোধ সহজ করতে বিএমডিএ প্রথম স্মার্ট কার্ড ভিত্তিক প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা চালু করে, যা কৃষি খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বিএমডিএ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ রিজিয়ন কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুনুর রশীদ বলেন, চলতি বছরে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ মহানন্দা নদীর পানি উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চলে নদী হতে প্রায় ১৭-১৮ কি.মি. দূরে প্রায় ৮০-৯০ ফুট উঁচু প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর তীব্র পানি সঙ্কট এলাকায় পানি সরবরাহসহ চাষাবাদের জন্য ২টি প্রকল্প প্রস্তাব কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। যার একটি হলো ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে মহানন্দা নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং এর সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৩৯ কোটি টাকা।
অপর প্রকল্পটি হলো ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব প্রশমনে মহানন্দা নদী হতে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহের মাধ্যমে খরা প্রবণ বরেন্দ্র এলাকায় সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকা। এই ২টি প্রকল্পের আওতায় নদীতে স্থায়ী পাম্প স্টেশন স্থাপনসহ প্রায় ২১০ কি.মি. খাস খাল/খাড়ী ও ১৫০টি খাস পুকুর পুনঃখনন, প্রায় ৫ দশমিক ৫০ লাখ বৃক্ষ রোপণ, ২৭৫টি সোলার সেচ যন্ত্রপাতি স্থাপন, ৩৩৫ কি.মি. বারিড পাইপ লাইন নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ করা হবে।
এছাড়া বর্তমানে চলমান ২টি প্রকল্পের আওতায় অত্র জেলায় ৬কি.মি. খাল, ২টি বিল (বিল চুড়ইল ১১৫ একর, বিল কালন ১২৭ একর) ও ১৪৫টি পুকুর পুনঃখননের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমান সরকার যদি এই প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করে তাহলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিএমডিএ আরো ভূমিকা পালন করতে থাকবে। বিএমডিএ থেকে প্রাপ্ততথ্য, বিএমডিএ মোট ২৬৬১ কিলোমিটার খাল খনন করেছে। বিল খনন করেছে ১০টি। পুকুর খনন করেছে ৪ হাজার ৩৬৪টি। উপকারভোগী ১৫ লাখের বেশি পরিবার রয়েছে।










