ঢাকা | এপ্রিল ১৩, ২০২৬ - ৩:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ধানের দাম মণে কমেছে ৪০০ টাকা, ক্ষতিতে কৃষক

  • আপডেট: Sunday, April 12, 2026 - 10:10 pm

স্টাফ রিপোর্টার: চলমান জ্বালানি সঙ্কটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। সঙ্কটের কারণে পরিবহন চলাচল যেমন কমেছে, তেমনই বেড়ে গেছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ভাড়া। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য চালানে ভাটা পড়েছে।

এ অঞ্চলের হাটবাজার ও মোকামে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকরা বলছেন, বাইরের জেলা থেকে ব্যাপারি আসছে না। এক হাট বা মোকাম থেকে পার্শ্ববর্তী জেলার হাটে বা মোকামে ধান নেয়ার জন্য ছোট যানবাহনও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এক মাসে রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের দাম প্রতি মণে কমেছে ৩০০-৩৫০ টাকা। কোথাও কমেছে প্রতি মণে ৪০০ টাকা। ফলে কম দামে ধান বিক্রি করে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এছাড়া যেসব চালকল মালিক রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় বড় মোকাম থেকে ধান কিনতেন, তারাও কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।

কারণ, তারাও পরিবহন সঙ্কটে উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল পাঠাতে পারছেন না। জ্বালানি সঙ্কটের সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে কৃষকের ধানের ওপরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি তথ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত আমন মৌসুমে দেশে ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে।

এর মধ্যে ৯০ লাখ মেট্রিক টন আমন উৎপাদিত হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হয় নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলায়। এসব জেলায় ধান সংগ্রহ সহজলভ্য হওয়ায় চার শতাধিক স্বয়ংক্রিয় চালকল গড়ে উঠেছে। এসব চালকলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধান ভেঙে চাল উৎপাদন করা হয়।

ধানের চাহিদা থাকায় এ অঞ্চলের কৃষক কয়েক বছর ধরে উৎপাদিত ধানের ভালো দাম পেয়ে আসছেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হওয়ায় এক মাস ধরে পরিবহন সঙ্কট চলছে। আর এ কারণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর বড় ধানের মোকামে ধানের দাম কমছে। কৃষকরা বলছেন, হাটবাজারে ও মোকামে ধানের ক্রেতা নেই। ব্যাপারি-ফড়িয়া নেই। আড়তদাররা ধান কিনছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পরিবহন খাতে কিছুটা অচলাবস্থা চলছে। শুধু ধানই নয়, উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোয় উৎপাদিত শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য চালানেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

মোহনপুরের কেশরহাট বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আবু বাক্কার বলেন, প্রতি মণ ধান যেখানে আগে ১৫শ-১৬শ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ১২শ-১৩শ টাকায়। তিন-চারশ টাকা করে কমে গেছে ধানের দাম। এমনকি চিকন ধানের দামও কমে গেছে। এর ফলে আমরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যের ওপরও। পরিবহন সঙ্কটের কারণে মোকামে ধান কিনে মিলে আনতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে, যা ধানের দামের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আল আমিন সরকার জানান, জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পরিবহন চলাচল কমে গেছে। এর প্রভাব পণ্য চলাচলের ওপরও কিছুটা পড়েছে।