ঢাকা | এপ্রিল ৯, ২০২৬ - ১:২৭ পূর্বাহ্ন

নববর্ষ: কর্মব্যস্ত তাঁত পল্লী

  • আপডেট: Wednesday, April 8, 2026 - 9:00 pm

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: নববর্ষকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে তাঁত পল্লী গুলি এখন কর্মব্যস্ত হয়ে পরেছে। ইতিমধ্যেই তাঁত পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলার সোহাগপুর, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারী আসতে শুরু করেছে এবং তাঁত মালিকদের আর্ডার দিচ্ছেন তাদের পছন্দের কাপড়ের জন্য। দিন রাত কাজ করে ব্যাপারীদের চাহিদা মত কাপড় তৈরি করছেন তাঁত মালিকেরা। এ বছর চাহিদা অনেক বেশি বলে জানান তাঁত মালিকেরা। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জেলায় এবার তাঁত বস্ত্র বিক্রির পরিমাণ দেড়শ থেকে ২শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জেলার বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালি, উল্লাপাড়া, সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁত পল্লীতে নববর্ষ উপলক্ষে যেন প্রানের সঞ্চয় হয়েছে। নবর্বষকে সামনে রেখে তাঁত পল্লীতে মন্দা ভাব ইতিমধ্যেই কেটে গেছে। কর্ম চঞ্চল হয়ে উঠেছে জেলার তাঁত পল্লী গুলি। কর্মব্যস্ত হয়ে পরেছে নারী-পুরুষ ও শিশুরা। কেউ তাঁতে শাড়ি বুনছে কেউ সুতা রং করছে আবার কেউ চরকায় সুতা তুলছে। এই উপলক্ষে এই শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা বেশি দেখে তাঁত মালিকেরা বেশ খুশি। তবে পুজি সঙ্কটের কারণে অনেক তাঁত মালিকই চাহিদা মত শাড়ি, থ্রি পিচও লুঙ্গি সরবরাহ করতে পারছে না বলে তাঁত সংশ্লিষ্টরা জানান। এ বছর তাঁতের মাঝারি মানের শাড়ি ৫শ থেকে ৩ হাজার টাকায় পাইকারী বিক্রি হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ গ্রামের তাঁত মালিক শফি উদ্দিন জানান, অন্য বছরের তুলনায় বৈশাখী শাড়ির চাহিদা অনেক বেশি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে অগ্রীম টাকা দিয়ে অর্ডার দিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন এই অর্ডার বেড়ে চলেছে। সে জানান তাদের তিন ভাইয়ের কারখানায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করছে। ইতিমধ্যেই তাদের কাছে কোটি টাকার অর্ডার এসেছে। প্রতিদিনই অর্ডার আসছে। তাদের কারখানায় বেশির ভাগই বৈশাখী শাড়ি তৈরি হচ্ছে সে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন এ বছর রেকর্ড পরিমাণ তাঁত পণ্য বিক্রি হবে।

কাপড়ের পাইকার ইসমাইল হোসেন জানান সে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গী, থ্রি পিচ ক্রয় করে নীলফামারী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, করটিয়া, বাবুরহাট সহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকেন। ছোট মেয়েদের শাড়ি ১শ হতে ২শ টাকা করে কিনে ২শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা বিক্রি করেন। এতে খরচ বাদে ভালই লাভ হয়। বড়দের শাড়ি, থ্রি পিচ ৫শ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকায় ক্রয় করে মার্কেটে ৭শ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সে জানান সিরাজগঞ্জের পণ্যের দেশব্যাপী প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বেলকুচি এলাকার তাঁত মালিক নুর হোসেন জানান, এবার ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করি। কারণ ইতিমধ্যেই বেশ অর্ডা পেয়েছি।

একই এলাকার তাঁত শ্রমিক সাইফুল, আবেদ আলী, আনছার আলী জানান, এবার ভালই কাজ হচ্ছে আশাকরি বেশ টাকা আয় করতে পারবো। ঈদে যে খরচ হয়েছিল তা পুষিয়ে নিতে পারবো। বেলকুচি উপজেলা হ্যান্ড লুম এন্ড পাওয়ার লুম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বৈদ্যনাথ রায় জানান, নববর্ষ উপলক্ষে তাঁত কারখানা গুলি প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠেছে। প্রচুর অর্ডার আসছে। ইতিমধ্যেই বাইরের পাইকাররা এখানে এসে অর্ডার দিচ্ছেন। এতে করে তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। এ বছর জেলায় দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকার তাঁত পণ্য বিক্রি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।