ঢাকা | এপ্রিল ৭, ২০২৬ - ১১:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় কয়েলের আগুনে পুড়ল শেষ সম্বল, গরু বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ বৃদ্ধা

  • আপডেট: Tuesday, April 7, 2026 - 9:14 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: একমাত্র ছোট মেয়েকে রেখে ৪২ বছর আগে মারা যান ৬৫ বছরের বৃদ্ধা সাবিত্রী বালার স্বামী। ছোট সেই মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ভিটাতে থাকতেন তিনি। সেখানেই মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। এরপর একাই ওই ভিটাতে খুপরিঘরে থাকতেন বৃদ্ধা সাবিত্রী বালা।

সংসার চালাতেন গবাদিপশু লালনপালন করে । কয়েলের আগুনে পুড়ে মারা গেছে তাঁর শেষ সম্বল একজোড়া গরু। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাঁর খুপরিঘর। শেষ সম্বল রক্ষা করতে গিয়ে নিজেও দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সাবিত্রী বালা।

গত সোমবার রাতে বাগমারার গনিপুর ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় গোয়ালঘরে একজোড়া গরু রেখে পাশে খুপরিঘরে ঘুমাতে যান বৃদ্ধা সাবিত্রী বালা। এর আগে গোয়ালঘরে কয়েল জ্বালিয়ে দেন। গভীর রাতে কয়েলের আগুন থেকে গোয়ালঘরে আগুন ধরে যায়। পাশের ঘর থেকে আগুনের উত্তাপে বৃদ্ধার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করেন এবং চোখের সামনে গাভিন গরুটিকে উদ্ধার করতে গোয়ালঘরে ঢুকে পড়েন।

গাভিটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে সাবিত্রী দগ্ধ হয়ে ফিরে আসেন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। তবে গোয়ালঘরে থাকা দুটি গরু পুড়ে মারা যায়। পরে লোকজন দগ্ধ সাবিত্রী বালাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে গোয়ালঘরে পুড়ে যাওয়া দুটি গরু পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের বৃদ্ধার খুপরিঘরে আলু, কিছু চাল ও ব্যবহারের কিছু পোশাক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

প্রতিবেশী যোগেন্দ্রনাথ বলেন, সাবিত্রী স্বামীর মৃত্যুর পর একাকী স্বামীর ভিটাতে বসবাস করছেন। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করে চলতেন। সাবিত্রী বালার মেয়ে অসুখী বালা বলেন, বাবার মৃত্যুর পরও তার মা বাবার ভিটা ছেড়ে কোথাও যাননি। এলাকার লোকজন সহযোগিতা করেন মাঝে মধ্যে।

একমাত্র অবলম্বন ছিল দুটি গরু। সেটাও চলে গেল। সঙ্গে খুপরিঘরও। যোগাযোগ করা হলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। সাবিত্রী বালাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।