ঢাকা | মার্চ ২৫, ২০২৬ - ১১:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

৭০ টাকার পাটের বস্তা ২শ টাকা, বিপাকে তানোরের আলু চাষিরা‎

  • আপডেট: Wednesday, March 25, 2026 - 9:00 pm

সাইদ সাজু, তানোর থেকে: ‎রাজশাহীর তানোরে পাটের বস্তা নিয়েও সিন্ডিকেট করায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো আলু চাষি ও ব্যবসায়ী। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তার দাম বেড়েছে ডাবলেরও বেশি। মৌসুমের শুরুতে যে বস্তার দাম ছিলো সর্বোচ্চ ৭০ টাকা, এখন সেই বস্তা খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।  কৃষকরা বলছেন, মাত্র ১৫ দিন আগেও তানোর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাত্র ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বস্তা।

আলুর দাম একটু বাড়তে শুরু করায় সেই বস্তা এখন দেড়শ টাকা থেকে দুইশ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তানোর ‎উপজেলার মাঠে মাঠে আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এসব আলু হিমাগার বা দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি বাজারে (মোকাম) নিতে বস্তার প্রয়োজন। কিন্তু তানোরে মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে নানা অজুহাতে বস্তার দাম দ্বিগুন ছাড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক বস্তা বিক্রেতা ও ক্রেতাসহ আলু চাষিরা।

‎সংশ্লিষ্ট সুত্রে খোঁজ নিয়ে ‎জানা গেছে, তানোরে দু’সপ্তাহ ধরে বস্তা নিয়ে সিন্ডিকেট চক্রের রমরমা বাণিজ্য চলছে। বাজার মনিটরিং না থাকায় ইচ্ছে মতো দাম নেয়া শুরু করেছেন বস্তা ব্যবসায়ীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি চক্র বস্তা নিয়ে সিন্ডিকেট করছে।

ফলে অবিলম্বে অভিযান পরিচালনা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন কৃষকরা। গতকাল বুধবার বস্তা কিনে বাড়িতে যাচ্ছিলেন আলফাজ আলী নামের এক কৃষক। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন আগে বস্তার দাম ছিল ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে।

কিন্তু হঠাৎ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বস্তার দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি ১শ টি বস্তা পেয়েছেন ১শ ৫০ টাকা দামে। তিনি বলেন, এখন ১শ’ ৫০ টাকা থেকে ২শ’ টাকা করেও নিতে হচ্ছে বস্তা। আলু উঠার সঙ্গে সঙ্গে বস্তা সিন্ডিকেট শুরু করেছেন অসাধু ব্যবসয়াীরা। দেশে তো বস্তার ঘাটতি নেই তাহলে বস্তার দাম কেন বেশি হবে এমন প্রশ্ন তার।

এদিকে আলু চাষি কৃষকগণ বলছেন, উপজেলা ও থানা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের তেমন কোনো বাজার মনিটরিং নাই। তাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং থাকলে বস্তার দাম বাড়তো না। এমনিতে আলু চাষ করে কৃষকরা পথে বসে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না। আর বস্তার দাম বাড়িয়ে কৃষকের পকেট খালি করছে। অপর আলু চাষী রোকন সরকার বলেন, বছরের প্রথম দিকে বস্তার দাম ছিল ৭১ টাকা।

কিস্তু মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় খোলা বাজারে বস্তা বিক্রি হচ্ছে। ‎স্থানীয় আলু চাষিরা বলছেন, বস্তা নিয়ে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কিছু হিমাগার শুরু করেছেন সিন্ডিকেট। উপজেলার মাঠে মাঠে পুরোদমে আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। কৃষকের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বস্তা নিয়েও সিন্ডিকেট করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে মাঠে আলু উত্তোলনের পরে দাম ছিল ১০ টাকা এখন ১৫ টাকা কেজি। এক বিঘায় ফলন হচ্ছে ৬০ বস্তা (এক বস্তায় ৬৫ কেজি)। গত বছর এক বিঘা জমির আলু রাখতে বস্তার জন্য ৪ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়েছে, এবার ১২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে,অর্থাৎ শুধু বস্তার পিছনেই অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ৭ হাজার ২০০ টাকা।

কৃষকদের অভিযোগ, আলুর দাম নির্ধারণ করে ফড়িয়া মৌসুমি ব্যবসায়ি ও হিমাগার এসোসিয়েশন। অথচ দাম নির্ধারণ করার কথা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের। কিন্তু তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। ‎অন্যদিকে ৫০ কেজির বস্তায় আলু রাখতে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও ৭০ কেজির বস্তা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। এসব নিয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি নেই। ফলে নজরদারি না থাকায় সিন্ডিকেট চক্র বেপরোয়া।