জ্বালানি সঙ্কটে বন্ধের পথে রাজশাহীর বেশিরভাগ পাম্প
স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কটে রাজশাহীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের পরদিন থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। তেল কিনতে গিয়ে প্রতিদিনই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন হাজারো গ্রাহক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পেট্রল সরবরাহ করা হচ্ছে, আর অকটেনের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। ডিজেলের ক্ষেত্রে চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।
রাজশাহীতে মোট ৪৪টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও তেলের মজুত প্রায় শেষের দিকে। ফলে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় ও তাদের ক্ষোভ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ জন্য বেশকিছু পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বখতিয়ার শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে জানান, গত সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা ও মহানগরের প্রায় ২০টি পাম্প ঘুরেও তিনি তেল পাননি। মঙ্গলবারও কয়েকটি স্টেশনে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল থাকলেও তা বিক্রি না করে মজুত করে রাখা হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের আগেই অধিকাংশ পাম্পের মজুত শেষ হয়ে গেছে। ফলে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ নেই বললেই চলে।
তিনি আরও জানান, বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। একটি লরির ধারণক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার লিটার হলেও সেখানে মাত্র তিন হাজার লিটার সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ডিপো থেকে কেবল ডিজেল দেয়া হচ্ছে, পেট্রল ও অকটেন মিলছে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিপোসহ ফিলিং স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন আনিসুর রহমান শিমুল। তার আশঙ্কা, তেল সরবরাহ শুরু হলে গ্রাহকদের ভিড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।











