ঢাকা | মার্চ ২৬, ২০২৬ - ২:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

উপজেলা ও পৌরসভায় নতুন প্রশাসক দেবে না সরকার: প্রতিমন্ত্রী

  • আপডেট: Wednesday, March 25, 2026 - 10:10 pm

স্টাফ রিপোর্টার: আইনি জটিলতার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। সেটি আইন হিসেবে পাস হওয়ার পর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নির্বাচনের আগে উপজেলা ও পৌরসভায় কোন প্রশাসক নিয়োগ হবে না। এখন যারা প্রশাসক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন নির্বাচন পর্যন্ত তারাই থাকবেন।

বুধবার দুপুরে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনে  সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। তিনি বলেন, উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগে সরকারের কোন সিদ্ধান্ত নাই। এগুলোতে যারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন তারাই থাকবেন। যত দ্রুত সম্ভাব আমরা সেগুলোতে নির্বাচন করবো। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকার হিসেবে মনে করি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া উচিত। আমরা এটা করতে চাই। কিন্তু কিছু আইনি জটিলতার কারণে একটু সময় লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন বাতিল করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগের বিধান করেছে। এই নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে হতো। সেই প্রতীক বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে করার জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছে। এই অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী। এরপরে বিশেষ কমিটিতে আছে। জাতীয় সংসদ এই পাঁচটি অধ্যাদেশ পাস করার পরে আইন মন্ত্রণালয় হয়ে আমাদের মন্ত্রণালয়ে আসবে। তখন সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য দ্রুততম সময়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

মীর শাহে আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে আমরা কতগুলো আইন আকারে পাস করব, সেটি একমাসের মধ্যেই আমাদেরকে করতে হবে। তাই ওই অধ্যাদেশগুলো একমাসের মধ্যে পাস হবে। তারপর কোন নির্বাচনটি কবে করব সে বিষয়ে সময় ঠিক হবে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে এবং উপজেলা পরিষদে যে প্রশাসকদের দায়িত্ব দেয়া আছে, তারাই দায়িত্ব পালন করবেন।’ পরে প্রতিমন্ত্রী নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সবচাইতে আধুনিক, সুন্দর, গ্রিন এবং ক্লিন সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। এই সিটি কর্পোরেশনের অনেক উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। আজকে আমি দেখার পরে নিজেও চিন্তা করছি যে, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, সিও, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে আসবো দেখানোর জন্য। আমি নিজে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ঘুরে দেখেছি। তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন আপনাদের মতো এত সুন্দর না। আমার মনে হয় তারা যদি এগুলো দেখে, এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা কাজ করতে পারবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২টি সিটি কর্পোরেশনের চাহিদা নেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে আরো সুন্দর করতে কোনো নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন হলে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

রাসিক সচিব সোহেল রানার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান, সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ নূর-ঈ-সাঈদ, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।

এর আগে সকালে রাজশাহীতে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে এসে পৌছালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে অভ্যর্থনা জানান রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। পরে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) মাজার শরীফ জিয়ারত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। এসময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিল্লুর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরে যান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউপি অফিস থেকে শাহজাহানপুরে ইউপি অফিস সড়কে নরেন্দ্রপুর কাঁচার বিলের খালের ওপর নির্মাণাধীন  ব্রীজ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। এ সময় তিনি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রিজের এ্যাপ্রোচ রোড বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন করে ব্রিজটি সচল করে জনসাধারণ ও পরিবহন চলাচলের উপযোগী করার নিমিত্তে সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকের বলেন, ৮ কোটি টাকার রাস্তা ও ৭ কোটি টাকার ব্রীজের মূল অবকাঠামো নির্মাণ হলেও শুধুমাত্র সংযোগ এ্যাপ্রোচ না থাকায় দীর্ঘদিন ব্রীজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যৌথভাবে আমাকে পরিদর্শন করে জনগণের ভোগান্তি দূর করতে ব্রীজটি চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি এখানে এসেছি। মন্ত্রণালয় থেকে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত করে জনগণের চলাচলের উপযোগী করা হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এলজিইডি এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন)  ওয়াহিদুজ্জামান সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, ৮ কোটি টাকার রাস্তা ও ৭ কোটি টাকার ব্রীজের মূল অবকাঠামো নির্মাণ হলেও শুধুমাত্র সংযোগ এ্যাপ্রোচ না থাকায় দীর্ঘদিন ব্রীজটি পরিত্যক্ত ছিল।