প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
অদ্য ১৬ মার্চ, ২০২৬ দু-একটি গণমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে “রাজশাহীতে বিএনপি-যুবদল-জামায়াত নেতা মিলে নিয়ন্ত্রণ করছেন জিয়া শিশুপার্ক” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর পার্কটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুদের অবগত করতে চাই, শহীদ জিয়া শিশু পার্কের ইজারাদার ‘মেসার্স উম্মে রোমান এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার উপরে সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম সক্রিয় অংশীদার এবং পাঁচ আগস্ট-এর আগে ও পরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অর্থের বড় যোগানদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত। এর ফলশ্রুতিতে ছাত্র-জনতার করা হত্যাসহ একাধিক মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।
পাঁচ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন হলে কুখ্যাত এই আওয়ামী দোসর নিজেকে রক্ষা করতে আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে থাকার কারণে তার ইজারাকৃত রাসিকের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম স্থান ‘শহীদ জিয়া শিশু পার্কটি’ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা বিষয়টি বাঁধার মুখে পড়ে। পালিয়ে থাকায় সিটি কর্পোরেশনের চুক্তি মোতাবেক ইজারার কিস্তি সময়তো পরিশোধ করতে না পারার কারণে তিনি পর্যায়ক্রমে সরকারি চাপের মুখে পড়তে থাকেন।

এমন পরিস্থিতিতে নিজের চাপ এড়াতে তিনি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তাঁর ইজারা হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। এসময় আমি সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব সংরক্ষণ ও শিশুদের বিনোদনের অন্যতম স্থান ঐতিহ্যবাহী জিয়া শিশু পার্ক স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে তাঁর প্রস্তাবে সাড়া প্রদান করি।
পরবর্তীতে আরেকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে পলাতক আসামি আনোয়ার হোসেনের পূর্ণ সম্মতিতেই প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মূল ইজারাদারের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। ব্যবস্থায়ী অঙ্গনে চুক্তি হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া প্রাচীন এবং বৈধ হিসেবেই গৃহীত হয়ে আসছে। এই প্রক্রিয়ার সকল বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। চুক্তি মোতাবেক আমাদের পক্ষ থেকে ‘মেসার্স উম্মে রোমান এন্টারপ্রাইজ’কে নগদ ৫৫ লাখ টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পার্কটির রাইডগুলো সব নষ্ট ছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমি প্রায় ৫৫ লাখ টাকা খরচ করে রাইডগুলো সংস্কার করেছি। সবই শিশুদের একটা পরিবেশ দেয়ার স্বার্থে করা হয়েছে। এখান থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের একটা টাকাও মুনাফা হয়নি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু, যে ঐতিহ্যবাহী শিশু পার্কটিকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অর্থ যোগানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল, সেটিকে যখন সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করা হচ্ছে, ঠিক তখন প্রায় দেড় বছর চুপচাপ থাকার পর কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ইঙ্গিতে পলাতক আসামি আনোয়ার হোসেন কুয়োর গর্ত থেকে বেরিয়ে এই বৈধ চুক্তিকে অস্বীকার করছেন, তা সবার কাছেই স্পষ্ট।
তার কাছে আমাদের প্রশ্ন, চুক্তি হস্তান্তরের স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর যদি জাল হয়, তিনি যদি এ বিষয়ে কিছুই না জেনে থাকেন, তবে দেড় বছর আগেই কেন গণমাধ্যমকর্মীদের অবগত করেননি? এতোদিন তিনি চুপ করে ছিলেন কেন? আমি মনে করি, তিনি ফ্যাসিস্ট শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে ও তাদের অর্থের যোগান দিতে আবারো শহীদ জিয়া শিশু পার্ককে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন, যা কখনোই মেনে নেয়া হবে না। তার এই দোড় ঝাঁপের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। তার রাজনৈতিক উদ্দেশে প্রভাবিত না হয়ে এবং এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হীন উদ্দেশ্য অনুসন্ধ্যানে সম্মানিত গণমাধ্যমকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ট ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছি। এ বিষয়ে আমি আপনাদের সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত।
প্রতিবাদকারী
ইঞ্জি: মো. শাকিলুর রহমান শাকিল











