ঢাকা | মার্চ ১৭, ২০২৬ - ৬:০৬ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব

  • আপডেট: Tuesday, March 17, 2026 - 12:33 am

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে কলা, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ ৭৩১ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) রাতে জেলার ১১টি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ৩০ মিনিটের ঝড়বৃষ্টিতে এসব ফল ও ফসল আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলা চাষিদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় এক হাজার ৫ হেক্টর জমিতে কলা, সাত হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে গম, ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু এবং ৯ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চাষ করা হয়েছে।

এরমধ্যে কিছু ফসল উত্তোলনের পর বর্তমানে এক হাজার ৫ হেক্টর জমিতে কলা, সাত হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১৭ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে গম, দুই হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে আলু এবং ৪১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রয়েছে।

এরই মধ্যে আকস্মিক কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি আক্রান্ত হয়েছে।

আর্থিক ক্ষতির হিসেবে কষলে দেখা যায়, ঝড়ে ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন মাঠ ও বাগান ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ে বোরো ধানের বেড়ে ওঠা চারা হেলে পড়লেও শীষ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আক্রান্ত হয়েছে।

কলা বাগানগুলোর বেশিরভাগ গাছের মাথা বাতাসে ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ কলাই পরিপক্ক হতে শুরু করেছিল। যা আর এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠার কথা ছিল।

কলার কাঁদি নষ্ট হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। পেঁপে গাছের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেক জমির গমের শীষ ভেঙে হেলে পড়েছে। হেলে পড়েছে ভুট্টার গাছগুলোও। আলু ও শাকসবজির ক্ষেতগুলোতে বৃষ্টির কারণে জমেছে পানি।

বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারমুড়ি গ্রামের কলাচাষি জুয়েল রানা বলেন, ‌‌‘গতবছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার প্রায় ছয় বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছিলাম। তবে এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমার বাগানের অর্ধেকেরও বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ কলা বাজারে তোলার উপযোগী হয়ে উঠছিল। আর এক-দু সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেলো। এক রাতের ঝড়ে আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হলো।’

নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আহসান হাবিব বলেন, ‘কালবৈশাখী হানা দিয়ে মুহূর্তেই আমার দুই বিঘা জমির গম হেলে দিয়েছে। এসব গমের শীষ মাত্র পরিপক্ক হওয়ার পথে। এসময়ে প্রাকৃতির এই দুর্যোগ সব লন্ডভন্ড করে দিলো। আবহাওয়া যদি দ্রুত ভালো না হয়, তাহলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, ঝড়ে আমার উপজেলায় প্রতি হেক্টরে প্রায় ৭৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৮১ টাকার কলা এবং দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, গতরাতের ঝড়-বৃষ্টিতে যেসব জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। এটি চাষিদের চূড়ান্ত ক্ষতি। তবে আলু ও কিছু শাসসবজির জমিতে জমে থাকা পানি শুকিয়ে গেলে, সেখান থেকে কিছু ফসল চাষিরা বিক্রি করতে পারবেন।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাহবুবুল আলম বলেন, রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১০টা থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২০ মিনিটের ঝড়ে নওগাঁয় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। একই সময়ে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মাঝারি এই বৃষ্টিপাত থামার পর বর্তমানে বাতাসের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে এবং আবহাওয়াও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।