ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৩:১৯ পূর্বাহ্ন

নেসকোর কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবে উত্তাল রাজশাহী, প্রতিবাদের ঝড়

  • আপডেট: Tuesday, March 10, 2026 - 12:49 am

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষানগরী খ্যাত বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় পাশের জেলা বগুড়ায় স্থানান্তরের জন্য সরকারের পক্ষে একটি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এক আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটিও গঠন করেছে।

খবরটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই রাজশাহী নগরী ও জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বইছে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়। শিক্ষানগরী রাজশাহীর ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক গুরুত্ব রক্ষায় নেসকোর সদর দপ্তর স্থানান্তর ঠেকানো এখন স্থানীয়দের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয়রাই নয়, রাজশাহীতে বিএনপির নেতাকর্মীরাও এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারাও এই অঞ্চল থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের কাছে বিষয়টি নিয়ে জোরালো ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে একটি আধাসরকারি (ডিও) চিঠি দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজশাহী নগরীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে পাঠানো ডিও লেটারে তিনি উল্লেখ করেন, নেসকোর অপারেশনাল এলাকা উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের অপারেশনাল অনেক কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নেসকোর সার্বিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে বগুড়া জেলায় নেসকোর সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি আসবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে নেসকোর হেড অফিস বগুড়ায় স্থানান্তর একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও তিনি মত দেন। এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম বলেন, একটি ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য রাখা হয়েছে। কমিটি এক মাসের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অন্যত্র নেয়ার প্রবণতা অতীতে দেখা গেছে। এবারও যদি নেসকোর প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেয়া হয়, তাহলে তা রাজশাহীর জন্য দুঃখজনক হবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নেসকোর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে রাজশাহীতে অনেকেই সোচ্চার আছেন। সদর দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হলে জবাবদিহি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই রাখার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠিপত্র তিনি পাননি। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব ফারজানা খানম জানিয়েছেন, ডিও লেটারের ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রতিবেদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।