ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৩:১৮ পূর্বাহ্ন

নিয়ামতপুরে ফসলের মাঠে ড্রোন দিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ

  • আপডেট: Tuesday, March 10, 2026 - 12:00 am

রেজাউল ইসলাম সেলিম, নিয়ামতপুর থেকে: কৃষিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত কৃষি প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এদেশেও ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। এতে সময়, শ্রম ও খরচ কম লাগায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক। গত শুক্রবার নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের দামপুরা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা ওবাইদুর রহমান জুয়েল তার ড্রাগন, আম ও আলুর খেতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীটনাশক প্রয়োগ করেন।

কৃষি কাজে এমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাক লাগিয়ে দিয়েছে স্থানীয় এ প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের। হাতে-কলমে তারা প্রত্যক্ষ করেন এমন আধুনিক কষি প্রযুক্তির ব্যবহার।

জমিতে বিষ প্রয়োগ করে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুর রহমান বুধু। বাড়ি ফিরার পথে একটি আলুর খেতে ড্রোনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে এমন দৃশ্যে হতবাক হয়ে যান তিনি। এমন পদ্ধতিতে বিষ প্রয়োগ তিনি টিভিতে দেখেছেন।

আজ তার চোখের সামনেই গ্রামের মাঠে ঘটছে এমন কিছু। একটি উড়ন্ত পাখি বিষের জারকিন নিয়ে উড়ে গিয়ে সচারু রূপে বিষ প্রয়োগ করে ফিরে আসছেন আবার। তিনি বিমোহিত হয়ে দেখেন এমন দৃশ্য আর ভাবতে থাকেন বাংলাদেশের আগামী কৃষির ভবিষ্যৎ।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কৃষক বুধু বলেন, “আজ আমি দশ কাঠা জমিতে বিষ দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। বিষের গন্ধে শরীররটাও কেমন ঝিমঝিম করছে। খুব অস্থির লাগছে শরীর। গোসল না করা পযর্ন্ত স্বস্তি আসবে না। কিন্তু ড্রোন প্রযুক্তিতে বিষ দিলে তো আমাদের তথা কৃষকদের স্বাস্থঝুঁকি থাকবে না। এটি নির্দ্বিধায় কৃষি ও কৃষক বান্ধব। কেননা, জমিতে বিষ দিতে গিয়ে অনেক সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে, বিষের গন্ধে অজ্ঞানও হয়ে পড়ে অনেকে।”

জানা যায়, কৃষি উদ্যোক্তা ওবাইদুর রহমান জুয়েল পেশায় তিনি ছিলেন সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দামপুরা গ্রামে গড়ে তুলেন একটি কৃষি খামার। এ অঞ্চলের মাটি বিশ্লেষণ করে কৃষকদের কৃষিতে সাড়া জাগাতে তিনি দামপুরা গ্রামের পাঁচ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলেন ড্রাগন বাগান। দেশে ড্রাগন চাষের শুরুতেই তিনি গড়েন এ বাগানটি। এছাড়াও তার রয়েছে বেশ কিছু বিভিন্ন জাতের আমের বাগান।

এবার তিনি নিয়ামতপুরের খোলাটা মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে ৪ একর জমিতে আলুর চাষ করেছেন। তিনি ড্রাগন চাষে যেমন সফলতা পেয়েছেন তেমনি আলুতেও দেখছেন সম্ভাবনা। এ অঞ্চলের মাটিতে এমন ভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে কৃষকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এ কৃষি উদ্যোক্তা।

ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেতে কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়ে এ কৃষি উদ্যোক্তা জুয়েল জানান, তিনি উন্নত বিশ্বে কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার দেখেছেন। সেখান থেকে ধারণা নিয়েই তিনি এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ লাভজনক হতে পারে ভেবেই ড্রোন প্রযুক্তি ব্যাবহার করেছেন।

এছাড়াও এলাকার কৃষকদেও উদ্বুদ্ধ করাটাও একটি উদ্দেশ। কীটনাশক প্রয়োগ শেষে তিনি বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক প্রয়োগে বিশের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর লেবার খরচও কমেছে চারভাগের এক ভাগ। তিনি মনে করেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এমন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার মুসপানা নামক একটি প্রতিষ্ঠান কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে রিসার্চ করছেন। তারা কৃষি উদ্যোক্তা জুয়েলের আমন্ত্রণে ঢাকা থেকে এসেছেন ড্রোনের মাধ্যমে আলুর খেত, ড্রাগন বাগান ও আমের বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ করতে। ড্রোনের মাধ্যমে জমিতে কীটনাশক ও সার প্রয়োগের এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে মুসপানা এগ্রোফ্লাই। এগ্রোফ্লাই প্রজেক্টের দায়িত্ব¡ পালন করছেন বুয়েট থেকে পাস করা প্রকৌশলী তানভীর (এজিএম) ও প্রকৌশলী হাবিব।

এগ্রোফ্লাই প্রজেক্টের প্রকৌশলী তানভীর জানান, ড্রোনের মাধ্যমে ফসলে কীটনাশক ও সার তারা প্রয়োগ করে থাকেন। এর মাধ্যমে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের প্রয়োগ যথাযথ হয়। কোন প্রকার অপচয়ের সুযোগ থাকে না। এছাড়াও কীটনাশক প্রয়োগের সময় কৃষকের যে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে সেটাও থাকে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক ও সার প্রয়োগ কৃষক ও কৃষি উভয়ের জন্যই ভাল। এতে কৃষক উপকৃত হবেন। সরকার যদি কৃষি টেকনোলোজিতে প্রণোদনা দেন তবে এমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের জন্য সহজলভ্য হবে।