ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৩:১৭ পূর্বাহ্ন

চারঘাট ও বাঘায় তেল নিয়ে অস্থিরতা

  • আপডেট: Tuesday, March 10, 2026 - 12:19 am

চারঘাট ও বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।

সরেজমিনে সোমবার সকালে চারঘাট উপজেলার ২টি তেল পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে চালকরা। পাম্পের সামনে “তেল নাই” লেখা নোটিশ টানিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক চালক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তেলের সরবরাহ কম থাকায় পাম্পগুলোতে ধীরে ধীরে মজুত শেষ হয়ে যায়। গতকাল সোমবার সকালে ২টি তেল পাম্পে পুরোপুরি তেলশূন্য হয়ে পড়ে।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সকালে কাজে বের হওয়ার আগে তেল নিতে পাম্পে যাই। কিন্তু দুইটি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাওয়া যায়নি। এতে তাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাম্প মালিকদের মতে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত তেল না আসার কারণেই এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তেল সঙ্কটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নিয়মিত মনিটরিং চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বাঘা প্রতিনিধি জানান, বাঘায় জ্বালানি তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। এখানে উপজেলা সদরে অবস্থিত পেট্রোল পাম্পে গেলে মিলছে মাত্র দুই লিটার পেট্রোল। আর খোলা বাজারে চলছে দুর্ণীতির নৈরাজ্য। সরেজমিন উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তেলের দাম তাৎক্ষণিক ভাবে কমিয়ে দেয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বাঘার মনিগ্রাম বাজারের অবস্থিত মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারে।

লোকজনের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে অনেক দোকানদার তেলের বাড়তি দাম নিচ্ছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম রিয়াজ অয়েল সেন্টার। বাঘার মনিগ্রাম বাজারে তেল কিনতে আসা মোটরসাইকেল চালক জিল্লুর রহমান জানান, আমার মোটরসাইকেলে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারে এসে ছিলাম। তারা আমার কাছ থেকে এক লিটার পেট্রোল ১৫০ টাকা নিয়েছে। কোনো উপায় না থাকায় আমি বাধ্য হয়ে কিনেছি।

জানতে চাইলে মনিগ্রাম বাজারে অবস্থিত মেসার্স রিয়াজ অয়েল সেন্টারের স্বত্বাধিকারী এনামুল হাজি এবং মেসার্স মনির অয়েল সেন্টারের পরিচালক অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলি বলেন, গত ৭ মার্চ আমরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানে অভিযান চালিয়েছি। খুচরা বিক্রেতাদের অবৈধ মজুত না করতে এবং সরকারি মূল্যের বেশি টাকা না নিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের অভিযোগ পেলে আবারও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনিগ্রামের ঘটনাটি তদন্ত করবেন বলে উল্লেখ করেন।