ঢাকা | মার্চ ৯, ২০২৬ - ১২:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

তানোরে সরিষার ফলন ও দাম নিয়ে অসন্তোষ কৃষক

  • আপডেট: Sunday, March 8, 2026 - 9:55 pm

তানোর প্রতিনিধি: বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহীর তানোরে ধুম পড়েছে সরিষা কাটা ও মাড়াইয়ের। ফলন ও দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে চাষিদের মধ্যে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষা চাষে খরচ বেশি হয়েছে। সার কীটনাশক ও সেচের খরচ আগের চেয়ে বাড়তি দিতে হয়েছে।

কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির কৃষক তাছের মন্ডল জানান, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে শরিষা চাষ করেছেন, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে ৬ মণ ফলন হয়েছে পেয়েছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানাগেছে বেশিরভাগ কৃষক বিঘায় ৫ মণ, কারো ৬ মণ, ঊর্ধ্বে ৭ মণ করে ফলন পেয়েছেন। সুমন নামের আরেক চাষি জানান, কাঁচা অবস্থায় ২ বিঘা জমিতে সরিষা মাড়ায় করে ১২ মণের মতো ফলন পেয়েছি।

কম ফলনের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষকরা জানান, সরিষায় কয়েক বার রোগ হয়েছিল। মূলত এ কারণে ফলন কম হয়েছে। গতবার ভালো ফলন পেয়েছিলাম এবং খরচের তুলনায় দামও ভাল ছিল। কিন্তু এবারে লোকসান গুনতে হয়েছে। প্রতি বিঘায় সার বীজ ও কীটনাশক শ্রমিক খরচ মিলে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নিজস্ব জমিহলে কিছুটা লাভ দেখাতে পাওয়া যাবে তবে লিজের জমিতে যারা চাষ করেছেন তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরিষা ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরিষা বাজারে আসছে না, প্রতি মন সরিষা মানভেদে তিন হাজার চারশত থেকে তিন হাজার ছয়শত টাকায় কেনা বেচা হচ্ছে।

তানোরের আর্দশ কৃষক জাইদুর রহমান বলেন, কিছু বছর আগেও মাঠ জুড়ে দেখা মিলতো হলুদের সমাহার, শীতের শুরুতে উৎসবের সরিষা বুনতে দেখা যেতো কৃষকদের। কিন্তু অনাগ্রহ ও অসচেতনার কারণে প্রতি বছরই কমতে শুরু করেছে সরিষার আবাদ। তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের হাতিশাইল মাঠ, বিলকুমারী মাঠ, মালশিরা মাঠ, পাঁচন্দরের কচুয়া মাঠ, কলমার কুজিশহর মাঠসহ পুরো উপজেলা জুড়ে কানাই কানাই চাষ হতো সরিষার। কিন্তু এখন আর তেমন দেখা মিলে না সরিষার। কৃষকরা বেশি লাভের আশায় জমি দিচ্ছেন বর্গা আর তাতে রোপণ হচ্ছে আলু। সরিষা চাষ এখন হয়ে উঠেছে সৌখিনতা। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে আলুর ব্যাপক চাষকে দায়ী করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সরিষার আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। যারা সরিষা চাষ করেছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ফলন নিয়ে হতাশ। কৃষকদের মতে, আবহাওয়াজনিত সমস্যার পাশাপাশি ভালো মানের বীজ ও সারের ঘাটতি সরিষার ফলনে প্রভাব ফেলেছে। তবে কৃষি অফিস বলছে সারের কোনো ঘাটতি নেই। তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যা ইতিপূর্বে কখনো দিন চাষ হয়নি। যা গত বছরের চাইতে তিন হাজার হেক্টর কম ।

উপজেলার পাড়া মহল্লায় সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করন, কৃষক মাঠ দিবসসহ নানাভাবে আগ্রহ তৈরি করার কাজ করেছি আমরা। সরিষা চাষে যেমন তেলের চাহিদা পূরণ হয় ঠিক একই ভাবে গোখাদ্যের প্রধানতম খাবার খৈল তৈরি হয় এবং জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার হয়। যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকার রাখে।