ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১২:১০ পূর্বাহ্ন

আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ বাতিলের দাবি রেশম শ্রমিকদের

  • আপডেট: Sunday, March 8, 2026 - 10:34 pm

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রমিকদের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ বাতিল এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রেশম শ্রমিকরা।

রোববার দুপুরে নগরীর সুলতানাবাদে অবস্থিত রাজশাহী রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেশম শ্রমিক দল, রাজশাহী রেশম বোর্ড। এতে জানানো হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৬২ নম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে রাজশাহীতে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে রেশম খাতে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এক সময় রেশম বোর্ডে মোট ৫৮৩ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ৫৮৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩২৭ জনকে বাদ দেওয়া হয় এবং বর্তমানে মাত্র ২৫৬ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি, অর্থ মন্ত্রণালয় ছাঁটাই করা ৩২৭ জন শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের অনুমতি দিয়েছে। তবুও রেশম বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করছে না। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ সালের পর আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে টেন্ডারের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। এতে অনেক অভিজ্ঞ শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। শ্রমিকরা বলেন, তাদের অনেকেই ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে রেশম চাষ ও সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ। ঠিকাদারের অধীনে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা স্থায়ী শ্রমিকের তালিকা থেকে চিরতরে বাদ পড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় শ্রমিকরা আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল, ৫৮৩ জন শ্রমিককে রাজস্ব খাতভুক্ত করা এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ নিয়মিত বেতন প্রদানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেশম শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন তাসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী রেশম শ্রমিক দলের  সভাপতি শাহ আলম লুটু ও সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কুমার, জাতীয়তাবাদী রেশম কারখানা শ্রমিকদলের মীরগঞ্জ বীজাগারের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মীরগঞ্জ বীজআগারের  সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী, জাতীয়তাবাদী রেশম কারখানা শ্রমিকদলের সভাপতি জয়নাল আবেদিন আলম, বগুড়া রেশম বীজাগারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সামাদ ও রেশম গবেষণা শ্রমিকদলের নেতা শামসুল হক। এছাড়া অন্যান্য শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।