ঢাকা | মার্চ ৭, ২০২৬ - ৭:৩০ পূর্বাহ্ন

উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রা ঘিরে শঙ্কা

  • আপডেট: Saturday, March 7, 2026 - 12:29 am

সোনালী ডেস্ক: এবারও ঈদে ঘরমুখো মানুষের গলার কাঁটা হয়ে থাকতে পারে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক। তিন বছর পেরিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। ফলে বিভিন্ন সময়ে এই মহাসড়কে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারও ঈদে এই অংশে যানজটের আশঙ্কা করছেন যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এই অংশে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। ফলে এই অংশে যানজটের আশঙ্কা রয়ে গেছে। চালক ও যাত্রীদের মতে, টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও যমুনা সেতু এলাকায় তৈরি হওয়া যানজট পুরো সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরমুখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কটি এবারও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে মহাসড়ক উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। পরে ২০২২ সালের মার্চে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। বর্তমানে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ চলছে। সার্ভিস লেনসহ মহাসড়কের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণও চলমান রয়েছে। কোথাও কোথাও মহাসড়কের মাঝখানে বালুর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলাকালে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। শ্রমিক মফিজ ও আব্দুল আলিম জানান, তারা গত পাঁচ মাস ধরে এখানে কাজ করছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকায় দিনরাত কাজ চলছে।

উত্তরবঙ্গগামী এনা পরিবহনের চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েক বছর ধরেই এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের কাজ চলছে। এতে বিভিন্ন সময় যানজট তৈরি হয়। কবে কাজ শেষ হবে তা তারা জানেন না। তার মতে, ঈদ এলেই তড়িঘড়ি করে কাজের গতি বাড়ানো হয়। অন্য সময় কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যায় না। তাই এবারও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। আরেক বাসচালক নান্নু মিয়া বলেন, এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ চলায় প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে ঈদ এলে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়। বগুড়াগামী বাসের যাত্রী হযরত আলী বলেন, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতি বছর ঈদে বাড়ি ফিরতে এই মহাসড়কে যানজটে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় এবারও ঈদে বাড়ি ফিরতে একই দুর্ভোগ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী সার্ভিস লেন খুলে দেয়া হবে। এতে যানবাহন চার লেনের সুবিধা পাবে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুল আলম সরকার জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য মহাসড়কে এক হাজার পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ফিটনেসবিহীন কোনো যানবাহন চলতে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে ডাকাতি প্রতিরোধে মহাসড়কে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।