ঢাকা | মার্চ ৭, ২০২৬ - ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

সরকারি হাসপাতালের সামনে বেসরকারি ক্লিনিক, তৎপরতা বেড়েছে দালাল চক্রের

  • আপডেট: Saturday, March 7, 2026 - 12:11 am

চারঘাট প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠছে বেসরকারি ক্লিনিক। সেই ক্লিনিকের দালাল চক্র রোগীদের হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

রাজশাহী জেলার অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই এমন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। তবে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, হাসপাতালের বাউন্ডারির ভেতরে না হলেই হলো। আশেপাশে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা যাবে না, এমন কোনো নিয়ম নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিক সামনেই দি পপুলার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এ হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে চলছে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলো হলো- এ্যাপলো, গ্রামীণ ও মেডিকেয়ার।

এছাড়া মাত্র ৫০ থেকে ১০০ গজ দূরে ওহি ডায়াগনস্টিক। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা চিকিৎসায় দালাল চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। শুধু চারঘাটই নয়, রাজশাহী জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশেপাশের চিত্র অনেকটা একই রকম। চিকিৎসা নিতে প্রথমে সরকারি হাসপাতালের উদ্দেশে রোগীরা আসলেও সেখানে থাকা দালাল চক্রের সদস্যরা নানা সুবিধার কথা বলে ওইসব ক্লিনিক ডায়াগন্টিক সেন্টারে তাদের ভর্তি করেন। এসব ক্লিনিকে ভর্তির পর রোগীরা বুঝতে পারেন; তারা চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

চারঘাট উপজেলার বামনদীঘি এলাকার সোলেমান আলী জানান, হাসপাতালে আসা রোগীদের নানা প্রলোভন দিয়ে ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেয় দালালরা। তিনি নিজেও প্রতারিত হয়েছেন। দুই হাজার টাকার কথা বলে বিভিন্ন পরীক্ষা করতে ১১ হাজার টাকা নিয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর উপজেলা হাসপাতালের পাশে গড়ে উঠা একটি ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় এক রোগীর কিডনির ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় তানোরের মহানগর ক্লিনিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ হয়েছে। এখানে অপচিকিৎসার শিকার রোগীর নাম রোজিনা খাতুন (৩৫)। তিনি ক্লিনিক পরিচালক কামরুন নাহার স্মৃতি, চিকিৎসক ফজলে রাব্বি ও ক্লিনিক ম্যানেজার মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে কোনো প্রতিকার পাননি।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে আন্দোলন করে আসছি। ক্লিনিকগুলো সরকারি হাসপাতালের কাছে থাকার কথা না। কিন্তু সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশেপাশে নিয়ম না মেনে বহু ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এরসঙ্গে আবার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জড়িত।