ঢাকা | মার্চ ৭, ২০২৬ - ৮:৩২ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সঙ্কট

  • আপডেট: Saturday, March 7, 2026 - 12:55 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রল ও অকটেনের কৃত্রিম সঙ্কট দেখা দেয়ায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চালকেরা।

যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

রাজশাহীতে তেল সঙ্কট দেখা দেয় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই। ওই দিন নগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বাইকারদের চাহিদামতো তেল দেয়া বন্ধ করে দেয়। কোনো কোনো স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং কোথাও ৫০০ টাকার তেল দেয়া শুরু হয়।

গতকাল শুক্রবারও একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলো চাহিদামতো তেল বিক্রি করতে পারছে না। ইতিমধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলোতে তেল রয়েছে, সেগুলোতে অল্প অল্প করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তেল কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, কেউ বাইক খুব একটা ব্যবহার না করলেও এসে এক হাজার টাকার তেল চাইছে। আবার যারা বেশি বাইক চালায় তারা একাধিক পাম্পে ঘুরে ট্যাংকি পূর্ণ করে বাড়িতে সংরক্ষণ করছে। এতে সঙ্কটের বিষয়টি আরও তীব্রভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।

পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। সেই সাথে জ্বালানি তেল সঙ্কটের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সভাপতি মনিমুল হক বলেছেন, জ্বালানি তেল সরবরাহের কোন ঘাটতি নেই। সবাই তেল পাচ্ছেন। কোথাও কোনো ধরনের সঙ্কট নেই। যদিও যুদ্ধের কারণে অজানা শঙ্কা থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি গ্রাহক জ্বালানি নিতে আসছেন। এতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, জ্বলানি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে সরকারের তরফ থেকে যে সকল নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের কোনো সঙ্কট নেই। তবে পেট্রল পাম্পগুলোতেও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া জ্বালানি তেল অহেতুক মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি। গতকাল সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গুজব ও অপপ্রচারের কারণে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে পারে। তাই গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল নেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমতাবস্থায় ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গতকাল শুক্রবার বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেয়া যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেয়া যাবে ১০ লিটার তেল। এসইউভি/ জিপ/ মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস/ ট্রাক/ কার্ভাডভ্যান/ কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল নেয়া যাবে। জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা মজুত করে রাখার চেষ্টা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে গুজব প্রতিরোধে ও সচেতনতা তৈরির জন্রাযে জধানী ঢাকার পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি রাজধানীর আসাদ গেট এলাকায় পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তেল নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়াতে সবার প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। এসময় বাড়তি তেল মজুত না করতে চালকদের প্রতি অনুরোধ জানান।