মোহনপুরে জমি দখল বিরোধে শ্রমিকদের হুমকি ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর থানার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছী মহল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্ষতিসাধন ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তরা হলেন, পৌর এলাকার বাকশৈল মহল্লার মৃত সেকেন্দারের ছেলে শুকুর আলী (৪০), তার ছেলে আমিনুল ইসলাম (২২), তার স্ত্রী এবং তার বড় ছেলে শামীম রেজার স্ত্রী সহ হরিদাগাছি মহল্লার আব্দুল্লাহ (স্পিন্ডীয়ার চেরু) এর ছেলে আব্দুল আজিজ (২২)।
এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগকারী কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি মহল্লার মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ জহির উদ্দিন (৬৫)। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তার দাবি, বাড়ির পূর্ব পাশে ঘরের সঙ্গে লাগানো একটি জমি তিনি প্রায় ৪৭ বছর আগে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। উক্ত জমিতে খড়ি রাখার একটি ঘর ছিল।
তিনি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে পুরোনো খড়ির ঘর ভেঙে টয়লেট নির্মাণের জন্য শ্রমিকদের দিয়ে গর্ত খনন শুরু করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক একই সময়ে অভিযুক্তরা সেখানে এসে শ্রমিকদের ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিলে শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। পরে অভিযুক্তরা কোদাল দিয়ে গর্ত জোরপূর্বক ভরাট করে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জহির উদ্দিন এসময় স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ আসলাম হোসেনকে ফোনে ডেকে আনলে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। অভিযোগকারী জমির কাগজপত্র প্রদর্শন করেন বলে জানা যায়। পুলিশ আপোষ-মীমাংসার প্রস্তাব দিলে অভিযুক্তরা তাতে সম্মত হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় অভিযুক্তদের কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলরকে গালিগালাজ করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ দু’জনকে আটক করতে চাইলে অভিযুক্তরা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অভিযোগকারী থানায় উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন।
বিবাদী শুকুর আলী এ বিষয়ে বলেন, বিবাদমান জমিটি তাঁর শ্বশুর পরিবারের সম্পত্তি। সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ান অনুযায়ী জমির মালিক ছিলেন তাঁর শ্বশুর মৃত ভুলোন এবং ফুপা শাশুড়ি সালেমা। পরবর্তীতে ফুপা শাশুড়ি সালেমা জমিটি তাঁর শাশুড়ি মৃত মর্জিয়া বেগমের কাছে বিক্রি করে। এরপর তাঁর স্ত্রী চম্পা বেগম নিজ মায়ের নিকট থেকে জমিটি ক্রয় করে এবং খাজনা-খারিজ করে। জমিটির কিছু অংশ জহির উদ্দিনের আপন ভাই আয়নাল উদ্দিন তার স্ত্রীর নিকট থেকে ইতিমধ্যে ক্রয় করেছে। শুকুর আলীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জহির উদ্দিন জোরপূর্বক জমিটি দখল করে রেখেছে। জমি উদ্ধারের জন্য তাঁরা একাধিকবার জহির উদ্দিনের কাছে গেছে। এ বিষয়ে পূর্বে কেশরহাট পৌরসভা ও মোহনপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জমি সংক্রান্ত বিরোধে উভয় পক্ষের মামলা মহামান্য আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁরা জানতে পারে, জহির উদ্দিন উক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে। বিষয়টি জানার পর তাঁরা মোহনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। পরদিন সকালে আবারও সেখানে ঘর তোলার চেষ্টা চলছে বলে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জহির উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে এবং নিজেদের জমিতে খোঁড়া গর্ত ভরাট করে। এসময় আসলাম কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং জহির সহ উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুকুর পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন এবং আগের দিনের অভিযোগের বিষয়টি জানান। সেখান থেকে স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর জহিরদের ফোনে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন এবং উভয় পক্ষকে সমঝোতার পরামর্শ দেয়।
শুকুর আলী বলেন, তাঁরা পুলিশকে জানান যে, বিষয়টি নিয়ে পূর্বে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বসা হলেও জহির উদ্দিন আপোষে আসেননি এবং জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে গেলে, তাঁর দাবি অনুযায়ী, আসলামের কথায় পুলিশ পুনরায় ফিরে আসে এবং তাঁর ছোট ছেলেকে বেআইনিভাবে আটকের চেষ্টা করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তিনি, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ পুলিশকে অনুরোধ করে ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট ছেলের স্ত্রী মোবাইলে ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে এসআই জাহাঙ্গীর তাঁর ফোনটি কেড়ে নেন এবং গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে তাঁর পুত্রবধূ গুরুতর আহত হন। আহত পুত্রবধূকে প্রথমে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে এ ঘটনায় তাঁরা কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জানালেও ভবিষ্যতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান শুকুর আলী।
এই ঘটনায় মোহনপুর থানার এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, ৯৯৯-ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করি। বাদি রাজি থাকলেও বিবাদীরা বিষয়টি সমাধানে রাজি না হলে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় বিবাদীরা গালিগালাজ সহ আমাদের উপস্থিতিতে কাউন্সিলরকে মারার জন্য উদ্ধত হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করি। তখন বিবাদীরা আমাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদী থানা এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যা বিজ্ঞ আদালতে তদন্তের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করা হয়েছে।











