ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত নিহত ৭৮৭: রেড ক্রিসেন্ট
সোনালী ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ৭৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া হতাহতের এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি।
রেড ক্রিসেন্ট তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, অভিযান পরিচালনাকারী দলগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে যে দুঃখজনকভাবে এই সব হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৭ জন ইরানি শহীদ হয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানের ১৫৩টি শহর ও ৫০০টির বেশি স্থানে ১ হাজারেরও বেশি আঘাত হানা হয়েছে।
মঙ্গলবার তেহরানের পৃথক স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যমে রাজধানীর পশ্চিমে কারাজ এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানে বিস্ফোরণের খবর জানানো হয়।
হামলার কয়েক ঘন্টা পর জনসমক্ষে নেতানিয়াহু: ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত সোমবার দাবি করেছে, তারা তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই দাবির পর নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হন। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইহুদি শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।’ গত শনিবার মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কথা উল্লেখ করে গার্ডরা আরও জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরে নেতানিয়াহুকে বেইত শেমেশে দেখা যায়।
সেখানে তিনি বলেন, এটি অপারেশন রোরিং লায়নের তৃতীয় দিন, যা ইসরাইলি সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একযোগে শুরু করেছে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা পার্থক্যটি দেখতে পাচ্ছি—তেহরানের স্বৈরশাসকরা নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, আমরা তাদের রক্ষা করতে তাদের স্বৈরশাসকদের লক্ষ্যবস্তু করি।’ নেতানিয়াহু আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি এই সন্ত্রাসী শাসন, যা পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অর্জন করে, সমগ্র মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। তাই আমরা নিজেদের এবং বিশ্বকে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নিয়েছি।’ তিনি বিশ্বনেতা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বকে রক্ষা করার প্রচেষ্টায় আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা।’
কুয়েতে ইরানি হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। গত রোববার সকালে কুয়েতের শুইবা বন্দরে অবস্থিত একটি বেসামরিক বন্দরের অস্থায়ী মার্কিন সামরিক অভিযান কেন্দ্রে হামলা হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সোমবার নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। হামলার সময় ঘটনাস্থলে অনেক সেনা উপস্থিত ছিলেন, তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে একটি প্রজেক্টাইল ভবনটির ওপর আঘাত হানে। বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে সেনারা বাংকারে আশ্রয় নেওয়ার বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। প্রাথমিকভাবে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পরে আরও দুই সেনার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়, ফলে সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ জানান, “সুরক্ষিত কৌশলগত কেন্দ্র হলেও এক প্রজেক্টাইল সরাসরি আঘাত হানে। এটি একটি ড্রোন হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।” হামলার সময় কেন্দ্রটি তিনটি ট্রেলার একত্র করে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের প্রভাবে ভবনের দেয়ালগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আগুনের লেলিহান শিখা কুয়েতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেন্টকম জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় ১৮ জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। যুগ্ম সেনাপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং নিঃস্বার্থ সেবার অনন্য উদাহরণ। আমরা তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” মৃত সেনাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথম মার্কিন সেনাদের মৃত্যু হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, ট্রাম্পের ‘কড়া জবাব’ হুঁশিয়ারি: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, দূতাবাস ভবনে দুটি ড্রোন আঘাত হানে, যার ফলে সামান্য আগুন লাগে ও কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস তাদের অনুরোধ করেছে, যেখানে আছেন সেখানে থাকুন এবং সামরিক স্থাপনাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলুন।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, “সৌদি আরবে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আমরা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছি।”মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ও নিহত মার্কিন সেনাদের প্রতিশোধ কী হবে তা শিগগিরই জানা যাবে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। দূতাবাসের এই সতর্কতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
লেবাননে স্থানীয়দের অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ জারি ইসরাইলি বাহিনীর: লেবাননের বিভিন্ন স্থান থেকে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে স্থানীয়দের অন্যত্র চলে যাওযার নির্দেশ জারি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। বৈরুতের দক্ষিণে দুটি মহল্লার বাসিন্দাদেরও আসন্ন অভিযানের আগে কয়েকটি ভবন থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করা হয়েছে। জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। গত সোমবার ইসরাইলি বাহিনী জানায়, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার পর দেশটিতে তাদের আক্রমণ আরও জোরদার করা হবে ও গোষ্ঠীটিকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে। সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় লেবাননের বাসিন্দাদের প্রতি জরুরি সতর্কবার্তা জানিয়েছেন। তিনি ৫০টি স্থানের তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে নিজ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হবে।’ তালিকাভুক্ত অধিকাংশ স্থান দক্ষিণ লেবাননে। হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরাইল নিয়মিত এ সব এলাকায় হামলা চালায়। আরেকটি সতর্কবার্তায় আদ্রাই দক্ষিণ বৈরুতের ঘোবেইরি ও হারেত হ্রেইক মহল্লার বাসিন্দাদের দুটি ভবন এড়িয়ে চলতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে এসব ভবন ও সংলগ্ন ভবন ত্যাগ করতে হবে ও অন্তত ৩০০ মিটার দূরে অবস্থান করতে হবে।’ পরে দেওয়া আরেক সতর্কবার্তায় আদ্রাই ‘দক্ষিণ বৈরুতের উপশহর হাদাথ মহল্লায়’ অবস্থানকারীদের তৃতীয় একটি ভবন এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। গত সোমবার লেবানন সরকার নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে হিজবুল্লাহর সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। হিজবুল্লাহ সরকার ও সংসদ— দুই ক্ষেত্রেই প্রতিনিধিত্ব করে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে সোমবার ভোরে তারা ইসরাইলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর জবাবে সোমবার দক্ষিণ বৈরুতের উপশহর ও দক্ষিণ লেবাননের কয়েক ডজন গ্রামে বোমাবর্ষণ করে ইসরাইল। লেবানন সরকার জানায়, ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৫২ জন নিহত ও ১৫৪ জন আহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত ফ্লাইট পুনরায় চালু করবে ভারতীয় বিমান সংস্থা: ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া হাজার হাজার যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত বাণিজ্যিক পরিষেবা পুনরায় চালু করছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। লাখ লাখ দক্ষিণ এশীয় নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে বাস করেন এবং কাজ করেন। ইন্ডিগো জানিয়েছে, তারা দেশগুলোর মধ্যে কার্যক্রম ‘ক্রমাগতভাবে স্বাভাবিক’ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে সৌদি আরবের জেদ্দায় চারটি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সংস্থাটি গতকাল মঙ্গলবার থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে ফ্লাইট পুনরায় চালু করবে। তবে বিমান সংস্থাগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফ্লাইট চলাচল পরিষেবা স্থগিত রয়েছে।
বাজেট ক্যারিয়ার আকাসা এয়ার জানিয়েছে, তারা জেদ্দায় কিছু নির্দিষ্ট ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাহরাইন, সৌদি আরব এবং জর্ডানের নেতাদেরসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারতীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তাদের ধন্যবাদ জানান মোদী। হামলায় বেশ কয়েকজন দক্ষিণ এশীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে আবুধাবিতে কমপক্ষে একজন নেপালি এবং বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওমানের কাছে একটি জাহাজে একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। মোদী সোমবার বলেছেন যে তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথেও কথা বলেছেন, যেখানে তিনি ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে জোর দিয়েছেন।
ওমানের বন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত: ওমানের একটি বন্দরে গতকাল মঙ্গলবার ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত লাগে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান তাদের অভিযান অব্যাহত রাখার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। মাস্কাট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ওমান নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দুকম বাণিজ্যিক বন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ড্রোন একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত করে। এই হামলার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’ তিন দিনের মধ্যে এটি ওই বন্দরে দ্বিতীয় হামলা। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে এ হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনকারী ওমান যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
ওমান নিউজ এজেন্সি জানায়, রোববার একই বন্দরে দুইটি ড্রোন আঘাত হানলে একজন শ্রমিক আহত হন। একটি ড্রোন শ্রমিকদের আবাসনে আঘাত হানে। অন্যটির ধ্বংসাবশেষ জ্বালানি ট্যাংকের কাছে পড়ে। সংঘাত শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করলেও ওমান হামলার মুখে পড়ে। গত সোমবার রাজধানী মাস্কাটে উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হন। এতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণে একজন ক্রু সদস্য নিহত হন। তিনি ভারতীয় নাগরিক।
ইসরায়েলে নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ বাসস্থান বা তার আশপাশে অবস্থান করবেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শনিবার হত্যার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত তেহরানজুড়ে সারা রাত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরান ও তার মিত্ররা ইসরায়েল, প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। হামলার তীব্রতা এবং কোনো সুস্পষ্ট প্রস্থান কৌশলের অভাব দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী পরিণতির সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধের লক্ষ্য কী বা এর চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে—সে বিষয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, ‘এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ইসরায়েল ত্যাগে আমেরিকানদের সরিয়ে নেওয়া বা সরাসরি সহায়তা করার অবস্থানে নেই।’
দূতাবাস জানায়, ইসরায়েলের পর্যটন মন্ত্রণালয় গতকাল থেকে তাবা সীমান্ত ক্রসিংয়ে শাটল সেবা চালু করেছে। শাটলে যাত্রী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে নাগরিকদের মন্ত্রণালয়ের নির্গমন ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাবায় মিসরের সঙ্গে স্থল সীমান্ত ক্রসিংও চালু রয়েছে এবং এটি দিনে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা। দূতাবাস জানায়, ‘পর্যটন মন্ত্রণালয়ের শাটল ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কোনো সুপারিশ (পক্ষে বা বিপক্ষে) করতে পারে না। আপনি যদি এ উপায়ে ইসরায়েল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপনার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ’ দূতাবাস আরো জানায়, ‘ইসরায়েল ত্যাগে ইচ্ছুকদের সৌজন্য হিসেবে এ তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।’ দূতাবাস আরো জানায়, যারা জর্দানে যেতে চান তারা শাটলে করে এলাত যেতে পারেন এবং সেখান থেকে স্বতন্ত্রভাবে (ট্যাক্সির মাধ্যমে) ইয়িৎসহাক রবিন সীমান্ত ক্রসিংয়ে যেতে পারেন। সূত্র : এনডিটিভি











