ঢাকা | মার্চ ১, ২০২৬ - ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

দাম চড়া, ক্রেতা নেই: তরমুজ পচনের শষ্কায় ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট: Saturday, February 28, 2026 - 10:00 pm

মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: শুরুতে ১০০ এখন ৮০ টাকা। এবার রমজানের শুরু থেকেই তরমুজের বাজার ব্যাপক চড়া। তাই দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় তরমুজের ক্রেতা সঙ্কটে পড়ছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ব্যবসায়ীরা।

এদিকে চড়া দামে তরমুজ বিক্রি না হওয়ায় পচনের শষ্কায় পড়ছেন ব্যবসায়ীদের অবিক্রিত তরমুজ।

শনিবার কেজি প্রতি ১০ টাকা দাম কমিয়েও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। রোজার শুরুতে উপজেলায় বড় সাইজের তরমুজ ১০০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। তবে গতকাল ৭০টাকা দরে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

দুর্গাপুর সদর সিংগা বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইকেজি তরমুজ বিক্রি করছি। দাম শুনলেই ক্রেতারা আর দেরি করছেন না, চলে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ১৫ মণ তরমুজ আমদানি করেছিলেন রোজার আগে। কিন্তু ১০ দিনেও তা বিক্রি করতে পারেননি। এখন অবিক্রিত তরমুজ পচার উপক্রম। বিক্রির সময় পচা তরমুজও বের হচ্ছে। এখন ৭০টাকা কেজি দরে হাঁকিয়ে ক্রেতা ভিড়ানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত দামে ক্রেতারা কেউ তরমুজ কিনতে চাচ্ছেন না।

ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, এবার একেবারে বাড়তি দাম। তরমুজের দাম শুনেই ক্রেতারা চলে যাচ্ছেন। ৫০ টাকা কেজির নিচে দাম হলে ভালো হতো। তাহলে ক্রেতারাও কিনে খেত, আমাদেরও বিক্রি বাড়ত। আরেক ব্যবসায়ী গোলাম আলী বলেন, আমরা নাটোর মোকাম থেকে পাইকারি দরে তরমুজ কিনি। কিন্তু এবার মোকাম থেকে বেশি দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। সেখানে এক মণ তরমুজ ২ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। দাম শুনেই ক্রেতারা চলে যাচ্ছেন। রোজার আগের দিন ১০ থেকে ১২ মণ তরমুজ নিয়ে আসলেও অর্ধেকেরও বেশি পড়ে আছে। কিছু তরমুজ পচেও গেছে।

এদিকে, রমজান মাসের আগ থেকেই দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাওয়া যাচ্ছে গ্রীষ্মের রসাল ফল তরমুজ। মৌসুমের শুরুতে এ ফল ক্রেতাদের আকর্ষণ করলেও দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হয় বড় সাইজের ৯০ ও ছোট সাইজের তরমুজ ৮০ টাকা দরে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই তরমুজ এখন ১০ টাকা কমে পাওয়া গেলেও ক্রেতারা তা কিনতে নারাজ। গতকাল শনিবার দুর্গাপুর সদর সিংগা বাজারের ছোট শিশু সন্তান নিয়ে তরমুজ তরমুজ কিনতে আসছিলেন গৃহিণী লায়না খাতুন।

তিনি বলেন, এতো দামে তরমুজ কিনা প্রায় অসাধ্য হয়ে পড়ছে। রাস্তার পাশে তরমুজ দেখে আমার বাচ্চাটা জেদধরে ছিল। তাই দামদর করলাম । তারা ৭০ টাকা দাম চাইলে আমি ৬০ টাকা বললে দিলো না। আমি তরমুজ না কিনেই চলে যাচ্ছি। তরমুজ কিনতে পৌরসদর এলাকার শালঘরিয়া গ্রামে স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ সেলিম বলেন, একটা বড় আকারের তরমুজ কিনতে গেলে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাগবে। একজন নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে তরমুজ কেনা খুব কঠিন। তরমুজের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলে সবার জন্য ভাল হতো।