তানোরে কলেজের নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্ত নিয়ে মুখোমুখি শিক্ষকরা
তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্তে বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে হট্টগোল ও মারমুখী আচরণসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের কৃষি অফিস ও প্রশাসন অফিসের সামনে ঘটে হট্টগোল ও মব সৃষ্টির ঘটনাটি।
এ ঘটনায় কলেজ শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন কলেজ শিক্ষক কবিরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এদিকে তদন্তের জন্য বাদি আব্দুস সালাম সরেজমিনে কলেজে গিয়ে তদন্তের দাবিতে নির্বাহীর দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন।
জানা গেছে, তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ দেয়ার আগেই প্রায় কোটি টাকার লেনদেন ও জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয় নজরুল ইসলাম কে বলে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার ও কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ কে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে কৃষি অফিসে তদন্তের জন্য বাদী বিবাদী উপস্থিত হতে বলেন। সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তদন্ত শুরু হওয়ার আগে অফিসের নিচে রাস্তায় নিয়োগের পক্ষের শিক্ষক ও বিপক্ষের শিক্ষক দের মাঝে মারমুখী আচরণ ও মব সৃষ্টি করে সাজ্জাদ হোসেন নামের শিক্ষক সহ স্থানীয় কয়েকজন।
বাদী আব্দুস সালাম জানান, গত বুধবার আমাকে তদন্তের জন্য নোটিশ দিয়ে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে কৃষি অফিসে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপস্থিত হতে বলা হয়। আমি তার আগে এসে কৃষি অফিসার কে বলি কলেজে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য। এজন্য লিখিত আবেদন নিয়ে যায়। কিন্তু কৃষি অফিসার জানিয়ে দেয়, আমাকে তদন্তের জন্য ইউএনও স্যার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি আবেদন গ্রহণ করতে পারি না। বাধ্য হয়ে ইউএনওর দপ্তরে আবেদন করি। তার রিসিভ কপি নিয়েছি। এখন কলেজ ছুটি চলছে।
রমজান মাস ও ঈদ পর কলেজ খোলা হলে সরেজমিনে তদন্তের জন্য আবেদন করেছি। আমি অসুস্থ এ জন্য চলে এসেছি। আমাকে কৃষি অফিসার ও প্রকৌশলী মোবাইল করেছিল। আমি কারন জানিয়ে দিয়েছি। আমাকে ছাড়া তারা যদি তদন্ত করে তাহলে করতে পারে। শিক্ষক কবির ও মুখলেস জানান, এখন কলেজ ছুটি। আর ঘরে বসে এসব তদন্ত হয় না। আর নিয়োগের সাথে যারা জড়িত তারা নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। নিয়োগের আগেই যদি প্রার্থী ঠিক করা হয় তাহলে তো নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
আমরা চাই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হোক। শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কোন ধরনের টাকা পয়সা লেনদেন করা হয়নি। জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ করা হয়নি। সালাম না জেনে এসব করেছেন। সময়ে সব কথা হবে বলেও দাম্ভিকতা দেখান তিনি। তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ কে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।
আরেক তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রোববার শোনানির দিন ধার্য করা হবে। ওই দিন অনুপস্থিত থাকলে সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুনানি বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











