ঢাকা | মার্চ ১, ২০২৬ - ৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

চারঘাটে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, দাফন সম্পন্ন

  • আপডেট: Saturday, February 28, 2026 - 10:22 pm

চারঘাট প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ইসলামি জালসায় প্রধান অতিথি করা কেন্দ্র করে দু গ্রুপের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা এরশাদ আলীর (৬৫) খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার সকালে নিহত এরশাদ আলীর ছেলে রিমন আলী (২২) বাদী হয়ে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জলকে (৫৫) প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, গতকাল শনিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত এরশাদ আলীর লাশ পরিবারের কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, এরশাদ ভাইয়ের কি অপরাধ ছিল? কেন তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে? তিনি তো একজন দিনমজুর ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমি জীবনে অন্যায়কে কখনোই সমর্থন করিনি। এরশাদ আলী পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি না থাকলে তার স্ত্রী, সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে? মানুষ কী এত নিষ্ঠুর হতে পারে? আবু সাইদ চাঁদ পুলিশকে হুঁশিয়ার করে বলেন, নিহতের ছেলের দায়েরকৃত মামলায় কোনো ধাঁচের চালাকি করা হবে না। প্রকৃত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন উজ্জলের সমর্থক এবং এলাকার সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। বাদীর বাবা এরশাদ আলী সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের একজন সমর্থক। আগামী ৯ এপ্রিল ইউসুফপুর এলাকার ইসলামী জালসায় প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার দুপুরে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয় লোকজনদের মতবিনিময় হয়। সেখানে বাদী ও তার বাবাও উপস্থিত ছিলেন। এজাহারে আরও বলা হয়, জালসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেন উজ্জল গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। তখন উজ্জল গ্রুপের সমর্থকরা প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন যে, চাঁদকে সমর্থন করলে খুন জখম করে ফেলবেন। এরশাদ আলী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

পরে তিনি মসজিদ থেকে চলে আসেন। পরে রাতে এরশাদ আলী তারাবীর নামাজ পড়ার জন্য ইউসুফপুর সিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, আমের ডাল ও পেয়ারা গাছের ডাল নিয়ে এরশাদ আলীর পথরোধ করেন। এরপর তাকে সেখানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জল বলেন, যে গ্রামে ঘটনা, সে গ্রামেই আমার বাড়ি। আমি বিগত ছয়দিন ধরে ঢাকায় আছি। যিনি মারা গেছেন তিনিও সম্পর্কে আমার দাদা। আসামিরাও সবাই আত্মীয়। মসজিদের কমিটি নিয়ে সমস্যায় এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আবু সাঈদ চাঁদ আমাকে জড়িয়ে মামলা করিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। মনোনয়ন না পেলেও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছি। তারপরও প্রতিহিংসা থামেনি। এটা খুবই নিন্দনীয়। রাজনীতি এত নোংরা হওয়া উচিত না।

নিহত এরশাদ আলীর ছেলে মামলার বাদী রিমন আলী বলেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। শুধুমাত্র আবু সাইদ চাঁদের একনিষ্ঠ ভক্ত হবার কারণে প্রতিপক্ষরা তাকে খুন করেছে। আমি বাবা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ড হলেও এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, নিহত এরশাদ আলী ইউসুফপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে ওই এলাকায় আবু সাঈদ চাঁদ ও আনোয়ার হোসেন উজ্জলের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এর জের ধরেই শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এরশাদ।