ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২৬ - ১:১৬ পূর্বাহ্ন

নগরীতে ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ

  • আপডেট: Thursday, February 26, 2026 - 10:21 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর উত্তর শাহমখদুম এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন প্লট জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিক শাহমখদুম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত (মহানগর) ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, খাইরুল হোসেন রাজশাহী নগরীর একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী।

রাজশাহী নগরীর উত্তর নওদাপাড়া এলাকায় ক্রয় সূত্রে ১২৫২২ হোল্ডিং এবং ১৬০৮ নম্বর দাগে ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভিটা (আবাসিক) সম্পত্তির মালিক হয়ে নিয়মিত খাজনা প্রদান করে নামজারি সম্পন্ন করেন। দীর্ধ ২০ বছর ধরে সীমানা প্রাচীর দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। পাশাপাশি ১৫ বছর আগে ওই সম্পত্তি প্রিমিয়াম ব্যাংক, রাজশাহী শাখায় বন্ধক রেখে ঋণও গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার খাইরুল ইসলাম তার সম্পত্তি দেখতে গিয়ে লক্ষ্য করেন প্রতিপক্ষ উত্তর নওদাপাড়া এলাকার জারজিস ইসলাম পালান (৫৬), শরিফুল ইসলাম (৫০) এবং শামসুল (৫২)সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গাছ কেটে সীমানা প্রাচীর ভেঙে বাঁশ দিয়ে ঘেরার চেষ্টা করছে। বাধা দিলে তারা হাসুয়া, লাঠি, কুড়াল ও কোদালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয়। চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা যেভাবেই হোক জমি দখল করে নেবে বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নালিশি সম্পত্তিতে থাকা ১০টি মেহগনি গাছ ও ৫টি আমগাছসহ অন্যান্য গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় মারামারি ও প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং প্রতিপক্ষরা যেন জোরপূর্বক দখল নিতে না পারে সেজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী জমিরা মালিক খাইরুল হোসেন বলেন, আমার ক্রয়কৃত জমির বাউন্ডারির ভেতরে তারা জোর করে দখল নিতে পাঁয়তারা করছে। আমার এই জমির কাগজপত্র ব্যাংকে মর্গেজ করে লোন নেয়া আছে এবং আমার এই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্লানও অনুমোদন করা আছে। জমির মূল মালিকের কাছ থেকে আমরা ১২জন জমিটি প্লট আকারে ক্রয় করেছিলাম।

এখন কেউ যদি দখল নিতে আসে তাহলে আমার জমির ওপরে কেন আসবে, সে ঐ ১২ জনের প্লটেই দখল করুক। এখন হঠাৎ দেখি কয়েকজন আমার বাউন্ডারির ভিতরে বাশের বেঁড়া দিয়ে দখল নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি আইনের শরণাপন্ন হয়েছি। জমির কাগজ আমার নামে আছে। আমি শাহমখদুম থানায় এবং আদালতে মামলা করেছি। আমি আমার বৈধ মালিকানার জমি বুঝে পেতে চাই। সেই সাথে অবৈধ দখলকারিদের উপযুক্ত বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিপক্ষ জারজিস ইসলাম পালান বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমি আমার কেনা জমিতে দখল নিয়েছি, যার কাগজপত্রও আছে। খাইরুল ভাই কিনেছে ১৬০৭ নম্বর দাগে বোনের কাছে থেকে আর আমি ১৬০৯ নম্বর দাগে কিনেছি ভাইয়ের কাছে থেকে। জমির কাগজ না থাকলে কেউ কি কারো জমিতে যেতে পারে, আমার কাগজ আছে বলেই আমি আমার কেনা জমি দখল নিয়েছি। তাই আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা মিথ্যা। রাজশাহী মহানগর পুলিশের শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক বলেন, খাইরুল ইসলামের মালিকানা জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।