বাঘায় পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত পরিবারের কেউ খোঁজ রাখে না
এফএনএস: পাকহানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন প্রবাস দাস ও রাশ চৌধুরী। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন তারা দু’জন। এই দুইজনের মধ্যে রাশ চৌধুরী ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ভারতে যাওয়ার পথে ও অপরজন প্রবাস দাস ১৫ এপ্রিল নিজ এলাকায় পাকহানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন।
এই দু’জনের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার দশআনি ঋষি পাড়া মহল্লায়। তাদের রেখে যাওয়া ভিটা বাড়িতে টিন সেডের সাপরা ঘরে নিহত দুই উত্তরসরীদের নিয়ে বসবাস করছেন তাদের পরিবার।
নিহত দুই পরিবারের সাথে কথা বললে কান্নাভেজা চোখে তারা জানান, ২৬ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বর এবং ২১ ফেব্রুয়ারি এলে স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বাড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। অন্য সময় কেউ খোঁজ খবর নেয় না। সরকারিভাবে নিহত পরিবারকে কোন ভাতা প্রদান করা হয় না। ২০১৬ সালে ৯ সেপ্টেম্বর মারা গেছে রাশ চৌধুরীর স্ত্রী শেফালী চৌধুরী। বেঁচে আছে রাশ চৌধুরীর তিন ছেলে স্বপন চৌধুরী, রতন চৌধুরী, জীবন চৌধুরী ও নাতি-নাতনী।
প্রবাস দাসের স্ত্রী গীতা দাস জানান, সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিল আমার স্বামী। সে মারা যাওয়ার পর দুই শিশু পুত্র চার বছর বয়সের অনীল দাস ও দুই বছরের সুনীল দাসকে নিয়ে শুরু হয় কষ্টের জীবন। প্রতিবেশীদের দেয়া মাড় ভাত খাইয়ে লালন পালন করা হয় তাদের। ৪৩ বছর বয়সে দুই ছেলে ও এক কন্যা রেখে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে তার বড় ছেলে অনীল দাস। অনীলের স্ত্রী বাসনা দাস সংসার চালায় অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে।











