ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৬ - ২:৪০ পূর্বাহ্ন

বেড়েছে গম চাষ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

  • আপডেট: Tuesday, February 17, 2026 - 10:01 pm

এম রইচ উদ্দিন, পোরশা থেকে: চলতি রবি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় নওগাঁর পোরশায় গমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার এ উপজেলায় বেশি জমিতে গম চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকালে এবছর গমের বম্পার ফলন হবে বলছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি রবি মৌসুমে গম চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৮২০ হেক্টর। কিন্তু গম চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে। তবে তুলনামূলক ভাবে গত বছরের  চেয়ে এবারে ২৮৫ হেক্টর বেশি জমিতে গম চাষ হয়েছে। উন্নত জাতের গম ডাব্লিউএমআরআই-২, বারী-৩০, ৩২ ও ৩৩ চাষ করেছেন কৃষকরা।

গম চাষে পানি কম লাগে এবং শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় লাভ বেশি হয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে গমেরও নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে। ফলে নতুন জাতের গম চাষে কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে ফলনও ভাল হয় বলে তারা বলছেন। চলতি মৌসুমে কৃষকরা আশা করছেন বাজারে দাম ভাল থাকলে আগামীতে গমের চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষিপুুর ঝর্ণা গ্রামের গমচাষি ইসমাইল হোসেন ও রনি আহম্মেদ জানান, এ বছর ইসমাইল ১০০ বিঘা ও রনি আহম্মেদ ৭ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের গমের চাষ করেছেন। গম চাষে বিঘা প্রতি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এছাড়া  গম চাষে বিশেষ কোন  শ্রমিক খরচ নেই। বীজ বপন থেকে গম উঠানো পর্যন্ত   দুইবার পানি সেচ দিলেই হয়। গম ভাল হলে হেক্টর প্রতি ৪.২ মেট্রিকটন গমের ফলন হবে এবং দামও ভাল পাবেন বলে তারা আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ জানান, কৃষি অফিস থেকে কম পানিতে গম চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দিন-দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ঠাঁ-ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল বিশেষ করে পোরশা উপজেলায় পানির প্রচুর সমস্যা। পানির সমস্যার কারণে কম পানি সেচের মাধ্যমে গম চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রণোদনা, প্রদর্শনী ও বীজ সহায়তার আওতায় কৃষি অফিস থেকে গম চাষের জন্য কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের গমের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। আর গম চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।