ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬ - ২:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নওগাঁ-১ আসনের নতুন এমপি বললেন, ‘চেয়ারম্যান ভাই বললেই খুশি হবো’

  • আপডেট: Sunday, February 15, 2026 - 10:45 pm

ইউপি চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য: 

রেজাউল ইসলাম সেলিম, নিয়ামতপুর থেকে: ‘বিএনপি দল করার সুবাদে আমি আগে ছিলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সে থেকেই আপনারা আমাকে চেয়ারম্যান ভাই বলে ডাকতেন। আর আমার বাড়ির পাশ দিয়ে গেলেই বলতেন এটা চেয়ারম্যানের বাড়ি।

এখনও আপনারা আমাকে সেই পরিচয়েই চেয়ারম্যান ভাই বলে ডাকলেই খুশি হবো। আমাকে তথা ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আপনাদের সুখে দুঃখে সবসময় পাশে থাকতে পারি ও এলাকার উন্নয়ন করতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে থেকে বিজয়ী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। বেসরকারিভাবে ফলাাফল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার সকালে তার বাসভবনে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করতে আসা হাজার হাজার মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষী।

এসময় তিনি আগত সকলের উদ্দেশে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন এবং আগত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ্এলাকাবাসী সকলকেই মিষ্টিমুখ করান। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি প্রথমবারের মত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এ বিজয়ে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা বেশ খুশি।

উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমান নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ১৯৮৮ সালের পর থেকে পরপর চারবারের সফল ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। ছিলেন সকলের প্রিয় মুখ। এছাড়াও তিনি ছিলেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দুই দশক চেয়ারমান থাকাকালীন তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এব স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

পরবর্তীতে তার জনপ্রিয়তা ইউনিয়ন পরিষদেও গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে নিয়ামতপুর উপজেলাসহ এ আসনের পোরশা ও সাপাহার উপজেলায়। নেতা-কর্মীরা তাকে দেখতে চান এ আসনের কাণ্ডারী হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি ২০২৮ সালের একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিতর্কিত ওই নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের কাছে।

এবারো তিনি বিএনপি থেকে মনোননয়ন পেয়ে মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাহবুবুল আলমকে ২০ হাজার ৪৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুল আলম পান ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।

এছাড়াও জাতীয় পাটির মনোনীত প্রার্থী আকবর আলী লাঙ্গল প্রতীকে ৪২৪৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ্ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেক চৌধুরী মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮ ভোট।

বিএনপির জয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায়, নওগাঁ-১ আসনের (তিন উপজেলা নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) জনগণের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তাঁরা তাঁদের মূল্যবান ভোট ধানের শীষে দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। এ বিজয় এই আসনের সকল জনগণের বিজয়। এ বিজয় বিএনপির বিজয়।

তিনি আগামীতে ধর্ম-বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে এক সাথে কাজ করার কথা বলেন এবং সবাইকে নিয়ে নওগাঁ -১ আসনকে মডেল আসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ও ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে তিনি এই আসনে তাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান ও প্রকাশকৃত নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস