ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬ - ৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল

  • আপডেট: Sunday, February 15, 2026 - 10:14 pm

মোজাম্মেল হক, চারঘাট থেকে: প্রকৃতির মতে মধুমাসের স্বাদ নিতে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। তবে গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল। সেই মুকুলের গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে সফলতার স্বপ্ন।

সরেজমিনে রোববার সকালে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। যেদিকে চোখ যায় গাছে গাছে এখন শুধু দৃশ্যমান মুকুলের আভা। দেশি আমের পাশাপাশি আম্রোপলি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আম অন্যতম। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে।

ফজলি, লখনা, গোপালভোগ, আশ্বিনা, হিমসাগর, দুধসরসহ প্রায় ১৫ এর অধিক জাতের আম চাষ করা হয়ে থাকে এ অঞ্চলে। কিন্তু কয়েক বছর থেকে চাষীরা আমের দাম কম পাওয়ায় গাছ কেটে পুকুর বা অন্য ফসল করার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে পূর্বের তুলনায় কমেছে বেশ কিছু বাগান।

উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের চকলক্ষীপুর, মহননগর, ডাকরা, রায়পুর সহ বিভিন্ন এলাকার বাগান মালিকরা বলেন, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগবালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।

উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের পাটিয়াকান্দির আম চাষি আহসান আলী বলেন, আমের মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে। এটা অব্যাহত থাকলে আমের বাম্পার ফলন ও উৎপাদনে লাভের মুখ দেখা যেতে পারে। একই ইউনিয়নের ইদ্রিস আলী বলেন, গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তাই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি আমরা। এ ছাড়া আগাছা পরিষ্কারসহ পোকা দমনে কীটনাশক দেয়া হচ্ছে। এতে পোকা যেমন দূর হবে, তেমনি গাছে দেখা দেবে স্বাস্থ্যকর মুকুল। এতে করে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, আমরা আম চাষিদের ফুল ফোটার সময় ও আম যখন মটরদানা আকৃতি হবে তখন ছত্রাকনাশক জাতীয় ওষুধ স্প্রে করতে বলেছি। পোকা দমনে বালাইনাশক স্প্রে করার পরার্মশ দিয়েছি।

তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের ফলন ভাল হবে আশা করছেন তিনি। এছাড়া সব রকম তথ্য সহায়তা প্রদান করে কৃষকদের পাশে রয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।