শিবগঞ্জে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রদান করায় তারাফুল খাতুন নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত শুক্রবার শিবগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড শেখটোলা-তর্তিপুর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তারাফুল খাতুনের স্বামী সৈবুর রহমান স্থানীয় বিএনপির এক কর্মী বলে জানা যায়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এলাকাবাসী বলছে, সন্তানদের নিয়ে তারাফুল খাতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
রোববার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে তারাফুল খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার স্বামী বিএনপির রাজনীতি করেন। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে বলেন সব ঠিক থাকে যেন। কিন্তু আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে এসেছি। আমি আগেও জামায়াতের বিভিন্ন প্রোগ্রামে গেছি, যা আমার স্বামীও জানতেন। কিন্তু মানুষজনের কথা শুনে তিনি আমাকে তালাক দিয়েছেন। তারাফুলের ছেলে তারিফ হোসেন বলেন, আমরা এখন আমার ফুফুর বাড়িতে আছি। মাকে তালাক দেওয়ার পর আমার বাবা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুল স্বীকার করেন। কিন্তু আমার মা আর বাবার সংসারে ফিরতে চান না।
তারাফুলের স্বামী সৈবুর রহমান বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। রাগের মাথায় বউকে তালাক দিয়ে দিয়েছি। এখন লোকজন লাগিয়েছি তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য। শিবগঞ্জ পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল আজিজ মাহমুদ বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার জন্য যেহেতু তারাফুল খাতুনকে তালাক দেওয়া হয়েছে। সেহেতু দল তার সকল প্রয়োজনে পাশে থাকবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শিবগঞ্জ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম মহিউদ্দিন বলেন, ভোট একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট দেয়া নিয়ে সৈবুর রহমান তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। যা একটি স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন।











