ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬ - ১:০৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমাবাজির নেপথ্যে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য

  • আপডেট: Sunday, February 15, 2026 - 10:40 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে দুই যুবক নিহতের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপইজেলার চর বাগডাঙ্গা ফাটাপাড়া গ্রামের চান মোহাম্মদের ছেলে ইউসুফ (৪৫), একই ইউনিয়নের ফজর আলীর ছেলে শাকিল (৩৭) এবং বোমা বিস্ফোরণে আহত বজলুর রহমান, শুভ ও মিনহাজ আলী।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে শনিবার রাতে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন সদর মডেল থানায় । মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বোমা বিস্ফোরণে আহত তিনজন বজলুর রহমান, শুভ ও মিনহাজ আলীও রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, গতকাল রোববার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন পুলিশ। তিনি আরো জানান, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঘটনাস্থলে ২০ জনের পুলিশের দল অবস্থান করছে। তবে, বোমা বিস্ফোরণের পর এলাকার অবস্থা স্বাভাবিক  রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক পুরুষ এলাকা ছাড়া।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার রানীহাটি, শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ও নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে বোমা/ককটেল বানানোর একাধিক দক্ষ কারিগর এবং বোমা/ককটেল তৈরির কাঁচামাল, গান পাউডার মজুদ থাকলেও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগসহ ইউনিয়ন বিট পুলিশ এসব উদ্ধার এবং তাদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

মূলতঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে ভারতের সীমান্ত পার হয়ে হিরোইন, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল পাচারের অন্যতম নিরাপদ রুট। আর এই কোটি কোটি টাকার মাদ্রক ব্যবস্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে বড় বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। সাথে রয়েছে এসব চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারীদের খারাপ বলে জানলেও তাদের ক্ষমতাসীন এবং বড় বড় রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়ার খারার অভ্যাস। আর এই মাদক সিন্ডিকেটের রথি-মহারথিরা এলাকা নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য বজায় রাখতে ক্যাডার বাহিনী এবং সন্ত্রাসীদের লালন পালন করে আসছে, সেটা গোয়েন্দা বিভাগ, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

তবে, এসব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য নামে-মাত্র অভিযান চালালেও মাদক উৎখাতে তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে? মাদক কারবারের অভয়াশ্রম বলে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা, আলাতুলী, নারায়নপুর, শাহাজাহানপুর এসব ইউনিয়ন পদ্মা নদী বেষ্টিত, এ কারণে অনেক এলাকায় সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া না থাকায় মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিজিবির কিছু অসৎ সদস্যদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার এসব মাদকদ্রব্য দেশে এনে বিভিন্ন পথ দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। আর এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে সীমান্তবর্তী ইউনিয়নে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সখ্য চোখে পড়ার মতো।

এক কথায় চরবাগডাঙ্গা, আলাতুলী, নারায়নপুর, শাহাজাহানপুর ইউনিয়নে মাদকের চোরাকারবার সমূলে উৎখাত করতে হলে  বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত দীর্ঘ মেয়াদি ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিলে হয়তো এলাকা মাদকমুক্ত হতে পারে, বন্ধ হতে পারে চরাঞ্চলে আধিপত্য নিয়ে বোমাবাজি এবং নিরিহ মানুষের প্রাণহানী। আর দেশপ্রেমিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম সফলতা পেলে মিলতে পারে মাদকমুক্ত চরাঞ্চল ও সুস্থধারার যুবসমাজ এবং ঘুচবে এসব ইউনিয়নের নামের আগের বদনাম।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়ার একটি বাড়িতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে নিহত হন জিহাদ আলী ও আল আমিন নামে দুই যুবক এবং আহত হন তিনজন। আহত ব্যক্তিরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।