ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬ - ৫:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণ, নিহত দুইজন

  • আপডেট: Sunday, February 15, 2026 - 12:33 am

আতঙ্কে চরবাগডাঙ্গাবাসী:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া এলাকায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়েছে। নিহত দুইজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের ওপর ধুমিহায়াতপুর এলাকার মোয়াজ্জেমের ছেলে আলামিন (২০) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া এলাকার কোথানিপাড়ার মনিরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (২২)।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া গ্রামের জেনারুল ইসলামের ছেলে মিনহাজ (২২), নজরুল ইসলামের ছেলে বজলুর রহমান (২০) ও রানীহাটি ইউনিয়নের ওপর ধুমিহায়াতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শুভ (২০)। পুলিশের ধারনা, নিহতরা বোমা তৈরির কারিগর হিসেবে অন্য এলাকা থেকে এসেছিল।

তাদের দুজনের ডান হাতের কব্জি উড়ে যায় এবং তাদের পুরো শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। দুপুরে ঘটনাস্থলে র‌্যাবের বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ক্রাইম সিনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ শেষে বিকেলে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। পুরো এলাকা এখন থমথমে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার ভোর ৫টায় হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠে ফাটাপাড়া এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, কালাম আলীর বাড়িতে বোমা তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। কালামের ভাই দুলাল এবং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত ও পলাতক চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপুর পৃষ্ঠপোশকতায় বাইরে থেকে ককটেল বানানোর জন্য আলামিন, জিহাদসহ অন্যদের ভাড়া করে আনা হয়।

এসময় ককটেল বানানোর সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং টিনের চালা উড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন এবং আহত হন বজলুর রশিদ, মিনহাজ ও শুভ নামের আরও তিনজন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

জানা গেছে দুলাল সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং তিনি আগে আওয়ামী লীগ করতেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার উদ্দেশে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এং নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জন্যই মূলত বোমা বানানো হচ্ছিলো।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুরো ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার পেক্ষাপটে এসব ককটেল তৈরি করা হচ্ছিল এবং পাঁচ আগস্টের পর যারা এলাকায় মব তৈরি করেছে, তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

অপরদিকে, দুপুরে জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় নায়েবে আমির অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার সাথে প্রকৃত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান এবং বিএনপির সাবেক এমপির বক্তব্যকে দায়িত্বহীন বলে উল্লেখ করেন এবং তার বক্তব্যকে রাজনৈতিক ও উদ্দেশ প্রণোদিত বলেন। পাশাপাশি নিরাপরাধ ব্যক্তিরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এদিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং পুলিশের হেফাজতে আহতের চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ককটেল ও বিস্ফোরক (গান পাউডার) উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মর্গে থাকা মরদেহ শনাক্তে পরিবারের কেউ আসেনি।

এদিকে, হঠাৎ এই বিস্ফোরণে পুরো চরবাগডাঙ্গা এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এ ঘটনার সাথে জড়িত। স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপু ও সাবেক চেয়ারম্যান এবং বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বুলবুল এই অপকর্মের হোতা। তারা প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালাতে হাতবোমা তৈরি করছিল।

তবে সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপি’র নেতা রফিকুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে অবস্থান করছি। ভোটের দিন এলাকায় এসে ভোট দিয়েছি মাত্র। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ ভিলেজ পলিটিক্স করতে আমাকে জড়ানোর অপচেষ্টা করছেন।