ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬ - ৫:১২ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর আট জেলায় ভোট পড়েছে ৫৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ

  • আপডেট: Friday, February 13, 2026 - 12:00 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসেন। চলে একটানা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সাধারণ ভোটাররা।

বিভাগের আট জেলায় গড়ে ৫৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্যমতে, সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে রাজশাহী জেলায়। এখানে ভোট গ্রহণের হার ৭০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে নাটোর জেলায় সর্বনিম্ন ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বিভাগের অন্য জেলার মধ্যে জয়পুরহাটে ৫৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫ শতাংশ, সিরাজগঞ্জে ৬১ দশমিক ০৮ শতাংশ, নওগাঁয় ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ, বগুড়ায় ৫৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং পাবনায় ৫৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এদিকে ভোটগ্রহণকালে বেশকিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগমকে ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে।

ভোটগ্রহণ চলাকালে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। উপজেলা কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, যিনি মারধর করছিলেন তার নাম রজব আলী। তিনি পবার হরিয়ান ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।

রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া নিয়ে একজন প্রার্থীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি; কিন্তু মারধরের ঘটনা আমার জানা নেই।

এদিকে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের কাজলা কেন্দ্রে নামের ভুলে ভোট দিতে পারেননি অনেক নারী।

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় থাকা নামের সঙ্গে ভোটারের এনআইডির নামের মিল না থাকায় অনেককেই ভোট না দিয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

অপরদিকে রাজশাহীতে ভোটকেন্দ্রে নজর কেড়েছে সংখ্যালঘু নারীদের উপস্থিতি। রাজশাহীর ছয়টি আসনেই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী-৩ আসনের নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজশাহীতে মোট সংসদীয় আসন ছয়টি। ছয় আসনে মোট প্রার্থী ৩১ জন। ভোটের মাঠে শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এ দুই দলের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

এর মধ্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান; রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর; রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির শফিকুল হক মিলন ও জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদার; রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ ও জামায়াতের নাজমুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৯১ হাজার ২০১ জন। এর মধ্যে নারী ১১ লাখ ৫২ হাজার ৫০৮ জন। আর পুরুষ ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৭ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২৮ জন। জেলার ৯টি উপজেলা ও মহানগরে সব মিলিয়ে ৭৭৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।