ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬ - ২:২৮ পূর্বাহ্ন

প্রচারণা শেষ, আগামীকাল ব্যালট যুদ্ধ

  • আপডেট: Wednesday, February 11, 2026 - 12:55 am

স্টাফ রিপোর্টার: প্রতীক বরাদ্দের পর টানা ২০ দিনের জমজমাট নির্বাচনি প্রচারণা গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এখন মাঠজুড়ে কেবলই ভোট যুদ্ধের অপেক্ষা। নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো রাজশাহী বিভাগ জুড়েও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল মিছিল ও জনসভা করেছে মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত। ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

রাজশাহী বিভাগে মোট ভোটার ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৫ জন এবং নারী ভোটার ৮১ লাখ ৮২ হাজার ৭১৭ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৭৪ জন। এ বিভাগে এবার মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৫০৪টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৫৩৩টি।

আর ২ হাজার ৯৭১টি রয়েছে সাধারণ কেন্দ্র। রাজশাহী জেলায় মোট ভোটার ২২ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ২৩ হাজার ৯০৪ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৪০ হাজার ৩৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন। বিভাগের ৩৯টি আসনে ২০৯ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। আর জেলার ৬টি আসনে প্রার্থী ৩১ জন।

রাজশাহী পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় তিন হাজারেরও বেশি সদস্য থাকছেন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৯৬ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচনে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে থাকবেন ৭ হাজার ৬০৫ জন পুলিশ। এর বাইরে রাজশাহীতে অতিরিক্ত ৬ হাজার ১৯১ জন পুলিশ সদস্য থাকবেন।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ২ হাজার ১৫৯টি বডি ওন ক্যামেরা অনলাইন থাকবে। আর প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তায় ১৩ জন আনসার ও ৪ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন। র‌্যাব-৫ অধিভুক্ত ৫ জেলায় মাঠে থাকবেন প্রায় ৫০০ র‌্যাব সদস্য। ইতিমধ্যে টহল শুরু করেছে সংস্থাটি।

এছাড়া জেলার ৬টি আসনে ৭০০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিভাগের মোট ৫ হাজার ৫০৪ কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৫০৪ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ৩১ হাজার ৩২৩টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে ২ জন করে মোট ৬২ হাজার ৬৪৬ জন পোলিং অফিসার কাজ করবেন। এছাড়া প্রতি কক্ষে একজন করে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থাকবেন। এর বাইরেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতেও থাকবেন ৫ শতাংশ স্ট্যান্ডবাই কর্মকর্তা।

সূত্র আরও জানায়, গত রোববার রাজশাহী-২ (সদর) আসন ছাড়া বাকি পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য ব্যালট পেপার উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। ব্যালট পাঠানোর সময় প্রতিটি বহরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যালটগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর ব্যালটগুলো নির্ধারিত স্টোর রুমে সংরক্ষণ করা হয়। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পর্যায় থেকে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হবে। তবে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ব্যালট পেপার আজ ১১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর মাদরাসা মাঠ থেকে নগরীর সব কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আর রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাবেন এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

গত সোমবার নগরীতে এক অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় তিন হাজারেরও বেশি সদস্য থাকবেন। প্রতিটি ভোটার যেন নিরাপত্তার সঙ্গে ভোট দিতে আসতে পারেন, তা আমরা নিশ্চিত করছি।

এদিকে, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। ভোটার সংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে বড় নির্বাচনি এলাকা গাজীপুর-২ এবং সবচেয়ে ছোট ঝালকাঠি-১ আসন।

প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত যৌথবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ইতিমধ্যে জেলা থেকে ব্যালট পেপার উপজেলায় পৌঁছে গেছে। আজ বুধবারের মধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার। সকাল থেকে ব্যালট দেয়ার কাজ শুরু করবো। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে। নির্বাচনে ২ হাজার ২৮ প্রার্থী অংশ নেবেন, যার মধ্যে ৮১ জন নারী।

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। একই সঙ্গে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষে ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটাররা তাদের কাক্সিক্ষত সংস্কারের বিষয়ে রায় দেবেন।