রাজশাহীর ৬টি আসন: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র একদিন পরেই শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনি আমেজে রাজশাহীর সংসদীয় ৬টি আসনের প্রার্থীরা র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আর সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি প্রার্থী, সমর্থক ও পরিবারের সদস্যরা ছুটছেন ভোটারদের মন জয় করতে।
রাজশাহী জেলার ৬টি আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি, লেবার পার্টি, নাগরিক ঐক্য, সুপ্রিম পার্টি, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র মিলে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রত্যেক প্রার্থীই আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভাবনা নিয়ে প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসেও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা, মাইকিং, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গত ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। শেষ হবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন (ধানের শীষ), জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), গণঅধিকার পরিষদের মির মো. শাহজাহান (ট্রাক), আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আবদুর রহমান (ঈগল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আল-সাআদ (মোবাইল ফোন)। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৯, নারী ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৭ ও হিজড়া তিন জন।
রাজশাহী-২ (সদর) মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১, নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ ও হিজড়া ৮ জন। এই আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু (ধানের শীষ), জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (দাঁড়িপাল্লা), আমার বাংলাদেশ পার্টির মু.সাঈদ নোমান (ঈগল), নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ সামছুল আলম (কেটলি), বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম (আনারস) ও স্বতন্ত্র সালেহ আহমেদ (মোটরসাইকেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন (ধানের শীষ), জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমান (হাতপাখা), আমজনতার দলের সাইদ পারভেজ (প্রজাপতি) এবং স্বতন্ত্র হাবিবা বেগম (ফুটবল)। আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ১৯৯ জন। পুরুষ ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৬, নারী ২ লাখ ১২ হাজার ৩০৭ ও হিজড়া ভোটার ছয় জন।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির ডি.এম.ডি জিয়াউর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতের আবদুল বারী সরদার (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির ফজলুল হক (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান (হাতপাখা)। মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৩৫, নারী ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৬ ও হিজড়া ৪ জন। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মণ্ডল (ধানের শীষ), জামায়াতের মনজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লা (একতারা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (ঘোড়া), রায়হান কাওসার (মোটরসাইকেল) ও রেজাউল করিম (ফুটবল)।
আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৮, নারী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ ও হিজড়া ৫ জন। রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে বিএনপির আবু সাইদ চাঁদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস সালাম সুরুজ (হাতপাখা)। আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৮, নারী ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৩ ও হিজড়া ২জন।
‘উত্তরবঙ্গের মাটি বিএনপির ঘাঁটি’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত। তবে বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসন গত ১৭ বছর দখলে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবারের নির্বাচনে হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় ব্যস্ত।
তবে এবার কিছুটা হলেও ব্যত্যয় ঘটতে পারে বলে অভিমত সুশীল, সাধারণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ভোটারদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও বিএনপির মধ্যে তৈরি হওয়া বিভেদকে কাজে লাগিয়ে অর্ধেকের বেশি আসনে ভাগ বসাতে চায় জামায়াতে ইসলামী।











