ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬ - ২:৪৭ পূর্বাহ্ন

নিরাপদ খাদ্য আইনে রাজশাহী শহরের চার হোটেলকে ৫ লাখ জরিমানা

  • আপডেট: Friday, February 6, 2026 - 9:58 pm

স্টাফ রিপোর্টার: নিরাপদ খাদ্য আইন- ২০১৩ লঙ্ঘন করে হাইড্রোজযুক্ত গুড় ব্যবহার, ফাঙ্গাসযুক্ত পচা বাদাম সংরক্ষণ ও কেমিক্যাল ড্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধের সর রাখার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে রাজশাহীতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর লক্ষ্মীপুর ও সিএন্ডবি মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট  আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে তাৎক্ষণিক এসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অভিযানে নানকিং দরবার হলে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, পোড়া তেল, ফাঙ্গাসযুক্ত কাঠের কাটিং বোর্ড, নিম্নমানের মরিচের গুঁড়া, খোলা ডাস্টবিন ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরের প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়ের চালান রশিদ সংরক্ষণ না করা এবং লেবেলবিহীন পণ্য ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রানা মিষ্টি ঘরে মেয়াদোত্তীর্ণ টক দই, ডাল, গুড় ও সসের পাশাপাশি হাইড্রোজযুক্ত গুড়, পোড়া তেল, পঁচা মিষ্টি এবং খাবার মোড়কে খবরের কাগজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকার বিষয়টিও ধরা পড়ে।

এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ফাঙ্গাসযুক্ত পচা বাদাম, কেমিক্যাল ড্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধের সর সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, পোড়া তেল, আয়োডিনবিহীন লবণ, খোলা ডাস্টবিন এবং বৈধ আমদানিকারক ছাড়া বিদেশি পণ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া সালাম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে ফ্রিজে সংরক্ষণ, কেওড়া জল, আয়োডিনবিহীন লবণ ও লেবেলবিহীন মসলা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত।

জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, “নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী হাইড্রোজযুক্ত গুড়, ফাঙ্গাসযুক্ত পচা বাদাম এবং কেমিক্যাল ড্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধের সর সংরক্ষণের মতো গুরুতর অনিয়মের কারণে এসব জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসব খাদ্য সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযানে ক্রয়-বিক্রয়ের চালান রশিদ না থাকা, ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করা এবং বৈধ আমদানিকারক ছাড়া বিদেশি পণ্য ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” সংক্ষিপ্ত বিচার চলাকালে রাজশাহী জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ এবং র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।