সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির
রাজশাহীতে ১১ দলের জনসভা
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহর বিধান কখনো কারও ওপর জুলুম করতে পারে না, জুলুম করার প্রশ্নই উঠে না। এদেশে আমরা মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান নারী পুরুষ এদেশে বহু নৃতাত্বিক গোষ্ঠি আছে সাওতাল ভাই বোনেরা আছে, সবাইকে নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। আমরা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতি নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। জাতিতে জাতিতে মানুষে মানুষে হিংসা বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখতে দেব না। জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই, যেখানে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারবো। আমরা ওই দেশ চাই, যেখানে আমাদের শিশুরা পুষ্টি পেয়ে বড় হবে সুস্বাস্থ্যের সাথে। আর শিক্ষা পেয়ে হবে সুনাগরিক। শিক্ষার পরে তার হাতে মর্যাদার একটা কাজ পাবে ওই দেশটা চাই। আমার মা, আমার স্ত্রী আমার বোন আমার মেয়ে, তারা পাবে নিরাপত্তা এবং মর্যাদা। আল্লাহর দেয়া সমস্ত অধিকার তারা ভোগ করবে। আল্লাহ ছাড়া কাউকে তারা পরোয়া করার প্রয়োজন তারা অনুভব করবে না। ভয় পাবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যাকে সম্মান করতে বলেছেন, আমরা তাদের সম্মান করবো। যাকে ভালবাসতে বলেছেন, তাদের সবাইকে ভালবাসবো। কিন্তু আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবো না। নারীরাও না পুরুষরাও না। ভয় শুধু আল্লাহ তায়ালার জন্য। কিন্তু একটা ভীতির রাজত্ব ৫৪ বছরে কায়েম করে রাখা হয়েছে। গত জুলাইয়ে যারা লড়াই করে বুক চিতিয়ে জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে যারা আমাদেরকে জুলাই এনে দিয়েছে, ৩৬ জুলাই তাদের একটা অঙ্গীকার একটা আকাক্সক্ষা ছিল, তাদের আকাক্সক্ষা ছিল তারা একটা বৈষম্যহীন ন্যায়বিচারে ভরপুর একটা বাংলাদেশ চায়। এজন্য রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়েছে মাত্র একটা। বলেছে, উই ওয়ান্ট জাসটিস। আমরা ন্যায়বিচার চাই। ন্যায়বিচার সমাজে যখন কায়েম হবে, তখন সকলেই তার পাওনাটা পেয়ে যাবে। সেই ন্যায়বিচার কে দিবে, কোথা থেকে দিবে, সেই ন্যায়বিচার দিবে যারা বিচারকে সম্মান করে, আর সেই বিচারের উৎস হলো, আল্লাহর বিধান। আল্লাহর বিধানকে বাদ দিয়ে কখনো কোনেদিন ন্যায়বিচার কায়েম হয়নি, হওয়া সম্ভব নয়।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির খালিক, আমরা বাকিরা সব মাখলুক। আল্লাহ তায়ালা জানেন তার কোন সৃষ্টির কোথায় কী প্রয়োজন কোথায় কী দুর্বলতা, কী তার পোটেনশিয়াল রয়েছে, এটা আল্লাহর চাইতে কেউ বেশি বুঝে না। সেই আল্লাহ মানবজাতির অভিভাবক, রব। তিনি যে বিধান দিয়েছেন, এটা দুনিয়ার সর্বোত্তম বিধান। এ বিধান কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এ বিধান সমস্ত মানবজাতির সৃষ্টির জন্য। তিনি বলেন, আমাদের কথা সাফ, আমরা আল্লাহর কাছে জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, জনগণের রায়ের ভোটের ভালবাসা সমর্থনে আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ আমাদের দেয়, আমরা ইনশাআল্লাহ আমরা কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। ইনশাআল্লাহ এদেশে কারও দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না। এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে বংশানুক্রমিক পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। এই দেশে রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতা ভিত্তিতে, দেশপ্রেমের প্রমাণের ভিত্তিতে। এই দেশে আর আধিপত্যবাদী রাজনীতি চলবে না। প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। এই সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার ভিত্তিতে। আমরা মাথা উচু করে দাঁড়াতে চাই। এই যুব সমাজকে থামানো যায়নি, থামানো যাবে না ইনশাআল্লাহ।
প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এই যুব সমাজের প্রত্যাশা আমরা পূরণ করতে বদ্ধ পরিকর। যদি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি, আমাদের রাজনীতি করার কোনো দরকার নাই। তারা যা চেয়েছে সেই বাংলাদেশটাই গড়তে চাই। ইনশাআল্লাহ আমরা একটি মানবিক বৈষম্যহীন ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা সেই শিক্ষা ব্যবস্থাটা চাচ্ছি, যেটা মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। মানুষকে আর ডাকাত হতে সাহায্য করবে না। মানুষের সন্তান বানাবে, দেশ গড়ার কারিগর বানাবে। সেই শিক্ষা আমরা আমাদের সন্তানদের হাতে তুলে দেব ইনশাআল্লাহ। মায়েরা থাকবেন ঘরে চলাচলে কর্মস্থলে সব জায়গায় নিরাপদ, থাকবেন মর্যাদার সাথে। শিশু জন্ম নেয়ার পর তার পুষ্টি তার স্বাস্থ্যের পরিচর্যা এর দায়িত্ব সরকারের।
স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে তিনি বলেন, ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু সম্পূর্ণ বিনা খরচে, চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। অবসর জীবনে চলে যাবেন, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার, সেটাও বিনা পয়সায়। মাঝখানে পার্টিসিপেটির, কিছু আমরা কিছু সরকারের, এভাবে আমরা মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবো। তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগীয় নগরী ও জেলা শহরে আমরা মেডিকেল কলেজ কায়েম করবো, বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তুলব। শ্রমঘন এরিয়ায় শ্রমিকদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে। তারা যাতে সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন। সেই দেশটি আমরা গড়তে চাই।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ তাহলে আগামী ১২ তারিখ দুইটা ভোট, একটা গণভোট। গণভোটে হ্যাঁ মানেই নতুন বাংলাদেশ পুরনো রাজনীতিকে লাল কার্ড, যেই রাজনীতি মানুষ খুন করে, যেই রাজনীতি আয়নাঘর তৈরি করে, দেশপ্রেমিক নেতাদের খুন করে, আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করে। ১২ তারিখ সেই রাজনীতিকে ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড সেজন্য হ্যাঁ বলবো। হ্যাঁ চিহ্নতে সিল বসাবো। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। ইনশাআল্লাহ প্রথম ভোট হ্যাঁ। তিনি বলেন, এবার দ্বিতীয় ভোট, যাদের অতীতে খাসলত খারাপ ছিল, এখনো যারা লোভ সামলাতে পারেনি, সেই বিড়ালের হাতে গোশত পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দেবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের মান যার ইজ্জতের নিরাপত্তা দেবে? দিবে না।
আফসোস, তারাও মজলুম ছিলেন, কেন যে এখন বদলে গেলেন বুঝতে পারলাম না। বিভিন্ন জায়গায় দখলদারিত্ব নিতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন শেষ। করে এখন আমাদেরকে খুন করা শুরু করেছে, এরপরে আমাদেরকে এখন গালি দেয়া শুরু হয়েছে। যাদের মানুষ মারা গেল, যারা চাঁদাবাজি করে না, কষ্ট দেয় না, দুর্নীতি করে না, মামলা বাণিজ্য করে না, মানুষকে হয়রান করে না, তাদেরকে এখন বলা হচ্ছে জালেম। হাইরে আল্লাহ, এ কোন দুনিয়ায় পড়লাম!
যুবকদের উত্থান শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, পরিবর্তনের পক্ষে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে মা বোনদের উত্থান শুরু হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে অনেকে নারভাস। মাথা ঠান্ডা রাখেন। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় আসেন। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। ৫টা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরাা জানিয়ে দিয়েছে লালকার্ড। আগামী ১২ তারিখে হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লালকার্ড। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন দেখার বিষয় না, তুমি যে অ্যাপ্রন গায়ে দিয়ে আস, তোমাকে অবশ্যই লালকার্ড জানাবো।
রাজশাহী প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, রাজশাহীর কিছু সমস্যা আছে। মেডিকেল কলেজ আছে বহু পুরনো। ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা দরকার। ইনশাআল্লাহ আর কটা দিন তো সবর করেন, দাবি করতে হবে না, আমরা খুঁজে খুঁজে বের করবো, কোথায় কোথায় কী দরকার। সুগার মিল, এটা লোকসানি, শ্রমিকরা কাজ করে, লোকসানি কেন হবে? চুরি চামারির জন্য লোকসানি। মাওলানা নিজামী দেশের বন্ধ মিল কারখানা একটা একটা করে খুলতে শুরু করেছিলেন, চুরি বন্ধের জন্য এটা হয়েছিল। আমাদের ব্লু ইকোনোমিতে এখনো আমরা ঢুকতে পারিনি। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন, আমরা কারও চোখ রাঙানির পরোয়া করবো না। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনার চেষ্টা করবো। মনের মতো সব জায়গায় চাহিদা পূরণ করা যাবে।
সবশেষ তিনি বলেন, আমরা আগামী ১৩ তারিখ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সরকার চাই না, দলীয় সরকার চাই না, আমরা দলীয় সরকার চাই না, পরিবার ও গোষ্ঠিতান্ত্রিক সরকার চাই না, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই, আমি চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। সেই বিজয় যদি অর্জিত হয়, সেই বিজয় সকলের বিজয় হবে। আল্লাহর মেহেরবাণিতে আমরা সেজদায় পড়ে যাব। আমরা ওই দিনটার অপেক্ষা করছি। কোনো কালো চিল এসে যেন স্বপ্ন এলোমেলো করতে না পারে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, সিনা মজবুত করে শক্ত করে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। আমরা পারবো ইনশাআল্লাহ। না হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। সারা বাংলাদেশে জোয়ার শুরু হয়েছে। আল্লাহ যেন এ জোয়ার সংসদে পৌঁছায়।
রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মন্ডল ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম মোর্তজার যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাময়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। এতে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
জনসভা ঘিরে কানায় কানায় পূর্ণ হয় মাদরাসা মাঠ। রাজশাহীর ৬টি আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত এমপি প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আমাদের গোদাগাড়ী প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না। সকলের জন্য ন্যয় বিচার হবে, এখানে কেউ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জুলাই সনদ এবং সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের ওয়াদা করতে হবে। এই তিন শর্তে যারা একমত হয়েছে তারা আমরা ১১ দলে একত্রিত হয়েছি। জনসভায় তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক। এতে গোদাগাড়ী-তানোরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এই জনসভায় নারী কর্মীদের জন্যও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো জানায়, সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ৫৪ বছরের শাসন ও অপশাসন দেখে ক্লান্ত। এখন তারা পরিবর্তন চায়।
নির্বাচনি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি। এছাড়াও জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ শহরের এ টিম মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জেলায় সম্ভবনাময় অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে পর্যটন খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা নওগাঁর পর্যটন নিয়ে কাজ করতে চাই।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস এস এম ফরহাদ, নওগাঁ-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের জামায়াতের এমপি প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী খবিরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
আমাদের নাটোর প্রতিনিধি জানান, বিকেলে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলছেন, লুটেরারা, ব্যাংক ডাকাতরা, শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠনকারীরা আমার দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যদি আমাদেরকে সাহায্য করেন, সামর্থ্য দেন, ওদের মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে বের করে আনব এবং সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। যে এলাকা যতটা বঞ্চিত আগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলে যাবে ওই এলাকায়। যার যেটা পাওয়া তাকে সেটা দিতে হবে।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনিসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











