ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৬ - ৩:০৫ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী ৬-আসনে জয় পরাজয়ের নিয়ামক আ’লীগের ভোটাররা

  • আপডেট: Thursday, February 5, 2026 - 10:22 pm

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে রাজশাহী-৬ আসন। আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন শুরু হয়েছে জয়-পরাজয়ের খেলা। ভোটের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে চায়ের দোকান এবং হাট-বাজারে জমে উঠছে নির্বাচনি আলোচনা। এই আলোচনায় এবার সবার মুখে একটিই কথা, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-এর ভোটাররাই হবে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক। সরেজমিন লক্ষ্য করা গেছে, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটারদের কদর বেড়েছে। নিষিদ্ধ থাকা আ’লীগবিহীন নির্বাচনে দেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি এবাং জামায়াত উভয় দলই এখন আ’লীগ ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। এদিক থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষকে বিএনপির সাথে প্রচারণায় নামতে লক্ষ্য করা গেছে। তবে এটাকে টিকে থাকার একটি ‘কৌশল’ হিসাবে মন্তব্য করছেন অনেকে।

লোকজন বলছেন, অতীতে চারঘাট-বাঘায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের পক্ষে গেছে। এবার সেই ভোট নিজ নিজ পক্ষে নিতে সভা-সমাবেশ করছেন সকল দলের প্রার্থীরা। তবে কে এগিয়ে, আর কে পিছিয়ে, শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে বিজয় এসব প্রশ্নেই সরগরম নির্বাচনি এলাকা। এই আসনে চারজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় বিএনপি প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ ও জামাতের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক। তারা আরো বলেন, এর আগে জামায়াত-বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনি জনসভায় আ’ লীগের বিরুদ্ধে বিষাদ গাইতেন। তবে এখন সেটি থেমে গেছে। চারঘাট-বাঘার সুশীল সমাজ ও বিশ্লেষকরা বলেন, ইতোমধ্যে তারেক রহমান এক জনসভায় বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সর্ব প্রথম দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নের কথা ব্যক্ত করেছেন। অপর দিকে আমাতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ঋণ খেলাপি নিয়ে যে দলের ৩৯ জন প্রার্থী ভোটে নেমেছেন তাদের মুখে এসব কথা মানায় না।

অন্যদিকে এনসিপির উদীয়মান যুবক ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন সার্জিস আলম বলেছেন, এক বছর তিন মাস জুলুম নির্যাতন করেছেন যারা, তারা এখন ফেরেশতা সাজার চেষ্টা করছেন। এদিক থেকে নিষিদ্ধ থাকা আ.লীগের ভোটাররা যে দিকে রায় দিবেন তারাই পরবেন জয়ের মালা। চারঘাট-বাঘার বিএনপি নেতারা জানান, স্বাধীনতার পর ২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত এই আসনটি ছিলো বিএনপির ঘাঁটি। এখানে হেভি ওয়েটধারি আ’লীগ প্রার্থীও কখনো জয়যুক্ত হননি। তবে সময়ের সাথে অনেক কিছু বদলে গেছে। ২০০৮ সালে সামান্য ভোটের ব্যবধানে এখানে আওয়ামী লীগের বিজয় হয়। এরপর বিএনপি ভোট না করায় এবং বিভিন্ন অভিযোগ থাকা সত্তে¦ও একটানা আরও তিনবার আ’লীগের বিজয় হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট করতে না পারায় নৌকা সমর্থকদের ভোট যার দিকে গড়াবে তারাই বিজয়ী হবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজশাহী জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা কমিটির নেতা অধ্যক্ষ নাজমুল হক। জাতীয় পার্টির সাবেক সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস সালাম সুরুজ। ভোটাররা বলছেন, এই চারজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছেন বিএনপি ও জামাতে ইসলামীর প্রার্থীর নাম। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার পর্যন্ত গুঞ্জন এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হবে। সেই ক্ষেত্রে বিএনপি এবার বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় এই আসনটিকে নিজেদের দখলে নেওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে বসে নেই জামায়াতে ইসলামী। এবার নারীদের ভোট তারা বেশি পেয়ে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তবে সকল ক্ষেত্রে আলোচনা-সমালোচনায় মানুষের মুখে-সুখে একটি কথা উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটাররাই হবে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক।