বাগমারায় নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
আবু বাককার সুজন, বাগমারা থেকে: আগামী ১২ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
সেই সাথে উপজেলার সকল দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাদের মধ্যেও কর্মব্যস্ততা দ্বিগুন বেড়েছে। এই আসনে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রাজ্জাকসহ উপজেলার সরকারী সকল দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার সময়ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামকে নিজ কার্যালয়ে ভোটের কেন্দ্র সাজানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম দৈনিক সোনালী সংবাদকে জানান, ১৬ টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা নিয়ে বৃহত্তর এ উপজেলাটি গঠিত। এই আসনে সকল ভোটারেরা যেন নির্ভয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে পারে সে জন্য আমরা আপ্রান চেষ্টা করছি। এ জন্য এই আসনের মোট ১২২ টি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সকল ভোট কেন্দ্রকে একযোগে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া সকল কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহনে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য স্ব স্ব পদে তাদের ট্রেনিং কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ১৬ টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন ও মহিলা এক লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন। এছাড়া এ উপজেলায় মোট ৪ জন হিজরা ভোটারও রয়েছেন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২ টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোট কেন্দ্র ৬৫৪ টি ও অস্থায়ী ৪৯টি।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানান, এই আসনে মোট ১২২ টি ভোট কেন্দ্র ভোট গ্রহণের জন্য মোট ১২২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭০৩ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৪০৬ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আনসার ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সময় মত কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট পেপার ও বাক্সসহ সরঞ্জামাদি পাঠানোর জন্যও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, এই আসনে ভোট গ্রহণের জন্য এখন পর্যন্ত শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। কেউ সহিংসতা ও নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা করলে এবং নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে এবার বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ৪ জন প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বর্তমানে মাঠে রয়েছেন মাত্র দুজন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকেই ডিএম জিয়া ও ডা. বারী পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মতৎপরতা আর অন্যদিকে প্রার্থীদের সেই কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবমূখর নির্বাচনী প্রচারনায় এই আসনে এবার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভোট নিয়ে উৎসবের আমেজ।











