ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬ - ৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী অঞ্চলে সরগরম ভোটের মাঠ

  • আপডেট: Sunday, February 1, 2026 - 12:49 am

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি আসনসহ এর আশপাশের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনি মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। ফলাফল নিজের ঘরে উঠানোর লক্ষে প্রার্থীরা কোমর বেঁধে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন।

রাজশাহী-১

রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন গতকাল শনিবার গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন। এসময় তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, একই আসনে এবি পার্টির প্রার্থী ড. মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান মুহসেনী ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল শনিবার তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর এলাকায় গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার ও দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গণসংযোগকালে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। একই দিনে ড. আব্দুর রহমান মুহসেনী গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ডে নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন।

রাজশাহী-৩

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের মৌলিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেছেন, একমাত্র দাঁড়িপাল্লায় ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে আসবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজশাহী-৩ আসনের পারিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব এটাই প্রকৃত গণতন্ত্র। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে দেশের মানুষ এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দিনের ভোট রাতে চুরি করে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছিল, যার ফলে ভোট ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, ভয়ভীতি ও ভোটাধিকার হরণের অবসান ঘটাতে এখনই সময় গণতান্ত্রিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়া মানে শুধু একটি প্রতীকে সমর্থন নয়; বরং ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেয়া।

এদিকে, গতকাল শনিবার সকালে কেশরহাট পৌর এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ব্যবহৃত নোংরা পানি ড্রেনের মাধ্যমে বারনই নদীতে পড়ে পরিবেশ দূষণ করছে। এই পানি পরিশোধন করাই হচ্ছে তার প্রথম কাজ। পরিবেশ রক্ষায় বারনই নদী সংস্কার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দখলকৃত খাল উদ্ধার করে খনন করে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে করে কৃষকরা সেই পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করতে পারে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করছে। রাজশাহীতে কৃষি কলেজ স্থাপন, বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদক মুক্ত সমাজ গড়া ও গডফাদার এবং যারা গডফাদার তৈরি করছে তাদেরকে শায়েস্তা করা, কিশোর গ্যাং মুক্ত করা এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহী-৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমানের গণসংযোগ সব বয়সের ভোটারের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গতকাল শনিবার দুর্গাপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড শালঘরিয়া গ্রামে গণসংযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটন। এর আগে এই আসনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তবে সাংগঠনিকভাবে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করে এই আসনে মাওলানা মনজুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। হঠাৎ প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে নুরুজ্জামান লিটনের কর্মী-সমর্থকসহ নিজ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দেয়, তবে নুরুজ্জামান লিটনের উপস্থিতিতে দলীয় প্রার্থীর এই গণসংযোগ প্রাণবন্ত হয়। গণসংযোগকালে মাওলানা মনজুর রহমান স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে, দোয়া ও সমর্থনের পাশাপাশি “দাঁড়িপাল্লা” প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

রাজশাহী-৬

রাজশাহী- ৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ বলেছেন, আপনাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান করা হবে। পাশাপাশি আপনাদের মন্দির, রাস্তা যেগুলো বাঁকি আছে সেগুলো আমি ঠিক করে দেবো ইনশাল্লাহ। গতকাল শনিবার সকালে চারঘাট উপজেলার সহদহ ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগকালে সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড করা হবে। কেউ বাদ যাবে না। মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের বেতন দেয়া হবে। আরও বলেন, শুধু চারঘাট-বাঘা নয় সারাদেশের যে সমস্ত এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়েছে সেসব এলাকায় খাল খনন করা হবে। যাতে ফসল ফলাতে সুবিধা হয়। আপনারা সবাই ধানের ভোট দিবেন। গণসংযোগকালে সাথে ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল, যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর, সরদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন সহ চারঘাট উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মীগন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভায় গণসংযোগ করেন ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ আমিনুল ইসলাম। তিনি রহনপুর ঝড়ুপাড়া, হিরুপারা, প্রসাদপুর, কাঠাল মোড়, ভাটাপাড়া, সোবহান নগর কলোনি, রহমত পাড়া, খোয়ারমোড়, পুরাতন বাজার, কলেজ মোড়, স্টেশন বাজারসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ধানের শীষের ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন এবং পরে তিনি সোবহান নগর কলোনী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পথসভা করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখেন রহনপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এনায়েত করিম তৌকি, গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম তুহিন, বিএনপির তরুন, ইঞ্জিনিয়ার এম ফেরদৌস ইসলাম খোকন, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নেসা বাবলি প্রমুখ।

নওগাঁ-১

নওগাঁ-১ আসনের ৫ প্রার্থীর নির্বাচনি মাঠ সরগরম। নওগাঁ-১ আসনটি (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) উপজেলা নিয়ে গঠিত। এবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৪ জন দলীয় প্রার্থী ও একজন সতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নিয়াতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নওগাঁ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামি আন্দোলনের মাও: আব্দুল হক শাহ্ এবং লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির(এ) উপজেলা কমিটির সভাপতি আকবর আলী কালু ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা সাবেক সংসদ সদস্য নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরী। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ভোটের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা আসনটির বিভিন্ন স্থানে তাঁদের ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়ে দিয়েছেন। বিতরণ করছেন নিজ নিজ প্রতীক সম্বলিত লিফলেট। সে সাথে চলছে মাইকিং।