ঢাকা | জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ - ১:৪৪ পূর্বাহ্ন

কাজের গতি বাড়াতে জমিতে মাইক বাজিয়ে কৃষকের পেঁয়াজ রোপণ

  • আপডেট: Thursday, January 29, 2026 - 10:33 pm

মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার প্রায় মাঠে মাঠে মাইক বাজিয়ে বা উৎসবমুখর পরিবেশে জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করতে দেখা গেছে। এতে চাষি ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। মূলত এটি ব্যতিক্রমী প্রচারণা বা কাজের গতি বাড়াতে চাষিদের নব কৌশল। যা শ্রমিকের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

বৃহস্পতিবার কাক ডাকা সকালে পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের মাঠে মাইকের বিকট শব্দে গানবাজনার সাউন্ড ভেসে আসছিল। বিশাল মাঠে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০জন শ্রমিক গানের সঙ্গে জমিতে দ্রুততালে পেঁয়াজ রোপণ করছিল।

এছাড়াও দুইজন ব্যক্তি মাইকে কৃষি নিয়ে নানা বন্দনা তুলে ধরে প্রচার করতে থাকেন। এতে কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে যেন আনন্দের টেউ বইছিল। পরে সকাল ৮টা নাগাদ জমিতে চলে আসে মিষ্টি পাউরুটি। এরপর আসে মোরগ পোলাও। শ্রমিকেরা এসব খাবার আনন্দের সহিত উপভোগ করতে থাকে।

এ সময় জমির আইলে দাঁড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করছিলেন জমির মালিক কৃষক আব্দুর রশিদ মন্ডল। তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমাদের সবচেয়ে বড় ফসল। উৎপাদিত এ পেঁয়াজ বিক্রি করেই চলে সারাবছরের সংসার। তাই শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে একটু আনন্দ ফুর্তি করছি। তিনি এছর প্রায় ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করছেন। শ্রমিকদের অনুরোধে তিনি জমিতে মাইক সাটিয়ে গানবাজনার আয়োজন করেন।

কৃষকেরা জানান, গত কয়েকবছর থেকে উপজেলার হরিপুর,উজানখলসী, আমগ্রাম, বড়ইল, দেবীপুর, নামোদুরখালী, বখতিয়ারপুর, শ্রীধরপুর গ্রামে প্রায় দিনই মাঠে মাঠে কৃষকেরা মাইক বাজিয়ে আনন্দ ফুর্তি করে পেয়াজ রোপণ করছেন। গত দুই তিনবছর থেকে এ উপজেলার প্রায় মাঠে এ প্রথা চালু হয়েছে। এতে কৃষক ও শ্রমিকরা বাড়তি উৎসাহ পান। এছাড়াও পেঁয়াজ রোপণের দিনে ভাল খাবারও পরিবেশন করা হয়।

পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের আমেজ উদ্দিন বলেন, মাঠে গান শুনে আনন্দ ফুর্তি করে কাজ করতে ভালই লাগে।আগে এ প্রথা চালু ছিল না। পেঁয়াজ মৌসুমে প্রায় মাঠে মাইক বাজিয়ে পেঁয়াজ রোপণ করা হচ্ছে। এতে কৃষক ও শ্রমিকরা ব্যাপক উৎসাহ পায়। এছাড়াও ভাল খাবার দাবারও পরিবেশন করা হয়। একই গ্রামের মুরসালিন বলেন, জীবনে এই প্রথম এভাবে জমিতে আনন্দ ফুর্তি করে সবাই মিলে জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করছি। এতে সবাই মজা করছি।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, এবার উপজেলায় ৩ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে লাগানো শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বাকিগুলো লাগানো শেষ হবে। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বছরজুড়ে চাষিরা পেঁয়াজের দাম ভাল পান। এজন্য একটু আনন্দ ফুর্তি করে চাষিরা মাঠে মাঠে পেঁয়াজ রোপণ করছেন।