ঢাকা | জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ - ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী বিভাগে ভোটের মাঠে ৮ নারী

  • আপডেট: Thursday, January 29, 2026 - 9:55 pm

স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি আসনে মোট প্রার্থী ২০৩ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী সাতজন। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৬০ জন। সবশেষ ২০৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বী আট নারী প্রার্থী হলেন রাজশাহী -৩ ( পবা- মোহনপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাহামিদা ইসলাম তানিয়া, সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ) আসনে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত মল্লিকা খাতুন, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি-রব)’র ইলোরা খাতুন, জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী)-এর প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা এবং বগুড়া-৬ ( সদর) আসনে বাসদের নারী প্রার্থী অ্যাড. দিলরুবা নুরী।

রাজশাহী -৩ আসনের হাবিবার বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুরের সিংহমারা গ্রামে। তার স্বামীর নাম মাসুদ রানা। সে উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক। নাটোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. ফারজানা শারমিন পুতুল প্রয়াত বিএনপি নেতা ও প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। ফারজানা শারমিন বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে আমি বহু আগে থেকেই যুক্ত। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের কথা সংসদে তুলে ধরতেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। তিনি বলেন, নারীর অধিকারসহ দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। নাটোর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাহামিদা ইসলাম তানিয়ার নির্বাচনি প্রতীক মাথাল। তাহামিদা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

২০০৮ সালে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি কৃষক মজুর কেন্দ্রীয় সংহতি কমিটির সদস্য এবং গণসংহতি আন্দোলন নাটোর জেলা কমিটির আহ্বায়ক। তাহামিদা বলেন, নারী অধিকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চাই। নির্বাচনি প্রচারণায় সাড়াও পাচ্ছি ভালো। তিনি বলেন, এটি শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং নারী নেতৃত্বের উপস্থিতিকে দৃশ্যমান করার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। মেয়েরাও এখন কোনো কাজে পিছিয়ে নেই। সময় এসেছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মল্লিকা খাতুন গণঅধিকার পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। এমএসসি পাস এই নারী সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের রুপেরবেড় গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে। মল্লিকা খাতুন বলেন, আমি সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। জনসেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে এসেছি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। নির্বাচনে জয়ী হলে নদীভাঙন, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও  চরাঞ্চলের উন্নয়নসহ সর্বোপরি ভাঙনকবলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের ইলোরা খাতুন জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও শাহজাদপুর উপজেলার আহ্বায়ক। অর্থনীতিতে অর্নাস ও মাস্টার্স পাস এই প্রার্থী শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা মহল্লার আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। ইলোরা বলেন, মেঝ ভাই জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা, দাদা ও শ্বশুর একাধিকবার এলাকার ইউপি সদস্য ছিলেন। তাদের অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে এসেছি। এখন সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই।

জয়পুরহাট-১ আসনে বাসদের প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান লড়ছেন কাঁচি প্রতীক নিয়ে। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরেও এই দেশের কৃষকের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন সংগঠিত করতে চাই। জয়পুরহাটে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে তারা যাতে কৃষিভিত্তিক একটা সমাজ নির্মাণের জন্য তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে সেই লড়াইটা আমি চালিয়ে যেতে চাই। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ওই পদ থেকে অপসারণ করা হয় তাঁকে। এরপর তিনি এমপি প্রার্থীর ঘোষণা দিয়ে মাঠে গণসংযোগ করছেন। সাবেকুন নাহার বলেন, ‘নারী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা আমাদের সমাজে অনেক কঠিন। নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। মুখে যতই বলা হোক, নারীর ক্ষমতায়ন এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারীরা যে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সে পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, বিগত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাঁচবিবি উপজেলাবাসী আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। তাই এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য পদে মাঠে নেমেছি। নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস দমন ও বেকার সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রার্থী।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাসদের প্রার্থী অ্যাড. দিলরুবা নুরী বগুড়া জেলা বাসদের সদস্যসচিব। বগুড়া জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী তিনি। এ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান, শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান (সোহেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নুরী বলেন, আমি একজন প্রার্থী হিসেবেও ভাবলেও একটি দলের প্রধানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এটা কম কী। তবে আমি আশাবাদী।