রাজশাহী সদর আসনে প্রার্থীরা জানাচ্ছেন উন্নয়ন পরিকল্পনা
স্টাফ রিপোর্টার: জমে উঠেছে রাজশাহী-০২ সদর আসনের নির্বাচন। ভোর থেকে শুরু হয়ে প্রচার-প্রচারণা চলছে মধ্যরাত পর্যন্ত। সেই সাথে আচরণবিধি মেনেই নগরজুড়ে চালানো হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিং। এই আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ সামছুল আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র সালেহ আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকল প্রার্থীই কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ভোটারদের জানাচ্ছেন আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। এর আগে মিনু বলেন, আগামী ২৯ তারিখে তারেক রহমানের রাজশাহীর যে সমাবেশ সেটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের জোয়ার শুরু হয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এ মেয়র বলেন, আমার জীবনে যতগুলো নির্বাচন দেখেছি তাতে এই নির্বাচনে আরও বেশি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ধানের শীষের জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছোট্ট বাচ্চা থেকে বয়স্ক মা-বোন সবাই এখন ধানের শীষের পক্ষে।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজশাহীর ঐতিহাসিক যে সমাবেশ সেই সমাবেশ জনসমুদ্রের রূপ লাভ করবে। আজকে এটা আমরা প্রচার মিছিল করছি। রাজশাহী হচ্ছে আমাদের শান্তির শহর। এখানে যারা নির্বাচন করছে তারা সবাই আমাদের ভাই। একে অপরের সঙ্গে শ্রদ্ধা সম্মান ভালোবাসা দিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, আল্লাহর সবচেয়ে বড় রহমত আমাদের দলের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যাডামের সন্তান তারেক রহমান। যে উদ্দীপনা মাত্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই সারা দেশে তার জন্য সৃষ্টি হয়েছে এগুলো অতীতের ইতিহাসের সবকিছুকে ম্লান করে দিয়েছে। তিনি আমাদের গর্ব। আমরা সবাই আনন্দবোধ করি যে আগামীতে এমন একজন নেতা যে দেশকে শহিদের মতো স্বাধীনতা সম্পদ রক্ষা করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন। মিনু আরও বলেন, আগামী দিনে দেশের মানুষ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয়, সেবা করার জন্য নির্বাচিত করে, তাহলে আমরা দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করবো। তিনি বলেন, আমাদের নেতা বলেছেন যে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা হলো এদেশের সর্বস্তরের মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত করা, তাদের বিশ্বের কর্মক্ষম শক্তিতে পরিণত করা এবং তাদের স্বাস্থ্য সেবা সুনিশ্চিত করা। এরপর তিনি গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুর পর্যন্ত ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় এ গণসংযোগ চালানো হয়। এ সময় এমপি প্রার্থী মিনুর সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। গণসংযোগকালে প্রার্থী মিনু সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এড. ওয়ালিউল হক রানা, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, শাহমখদুম থানার আহ্বায়ক সুমন সরদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সদস্য সচিব নাসিম খান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি পূর্বের আহ্বায়ক মেহের আলী, সদস্য সচিব হারান, ১৭নং ওয়ার্ড পশ্চিমের আহ্বায়ক বাবু, সদস্য সচিব মান্নানসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের জিন্নাহনগর থেকে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করে বিএনপি রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় বিকেল থেকে তিনি পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করেন। ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, সাবেক কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ, ১৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন, বিএনপি নেতা নজরুল, আকরাম, শাহরিয়ার শওকত, জীবন, আবেদুর রহমান রিপন, যুবনেতা কামরুজ্জামান মিলন, রুহুল, মোহন, রতন ও ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক লিমনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে, দাঁড়িপাল্লার জয় হলে নগরীর সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চত করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী-০২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর সিএন্ডবি মোড়ে জুলাই ৩৬ চত্বরে এক নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আপসহীনভাবে কাজ করতে চাই। রাজশাহী-২ আসনের উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রয়োজন। জনগণ যদি তাকে নির্বাচিত করে, তাহলে তিনি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।











