ঢাকা | জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ - ৪:২৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী-২ (সদর) আসন: প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত নগরী

  • আপডেট: Tuesday, January 27, 2026 - 12:22 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জমে উঠেছে নির্বচনি প্রচার-প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত অবধি ছুঁটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুধু প্রার্থীরাই নয়, তাদের কর্মী-সমর্থকদের প্রচার মিছিলেও মুখরিত হয়ে উঠছে পাড়া-মহল্লা। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে, প্রচার-প্রচারণা ও গণসংগযোগে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এছাড়াও নগরজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে অফিস আদালত, সবখানেই নির্বাচন কেন্দ্রীক আলোচনা করতে দেখা গেছে। সবমিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজশাহী সদর আসন।

গতকাল সোমবার নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। এসময় তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। নগরবাসীর যাতে নাগরিক কোনো সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমরা আগামী দিনে নগরবাসীর কাঙ্খিত সেবা নিয়ে কাজ করবো। মিনু আরো বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে বিএনপি কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, “রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের পাশে থাকতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে ২৭ নং ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

রাজশাহী মহানগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে ওয়ার্ডের ছোট বটতলা থেকে কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুর পর্যন্ত ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় এ গণসংযোগ চালানো হয়। এসময় এমপি প্রার্থী মিনুর সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

ধানের শীষ প্রতীকের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে ২৭ নং ওয়ার্ড। গণসংযোগে অংশ নেয়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, মিনু দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে আছেন। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে তাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ সময় ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় এক ভোটার বলেন, “আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই যিনি কথা বলবেন না, কাজ করবেন। মিনুকে আমরা কাছ থেকে চিনি, তাই তার প্রতি আমাদের আস্থা আছে।” গণসংযোগ শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রার্থী মিনু সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আগামী দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এড. ওয়ালিউল হক রানা, জিয়া পরিষদ নেতা প্রফেসর আখতার হোসেন, মতিহার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনসার আলী, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির (পূর্ব) সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, ২৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি পূর্বের সভাপতি কমল, ২৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি পশ্চিমের সভাপতি আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রুবেলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, গতকাল রোববার বিকেলে নগরীর ২১ নং ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় মিনু ২১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের কাছে যান এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করেন। এই গণসংযোগে ২১ নং ওয়ার্ড বিএনপির ভাপপ্রাপ্ত সভাপতি আসলাম, সাধারণ সম্পাদক কুদরতে খুদা মাহবুব ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, গতকাল সোমবার সকালে নগরীর কামাল খাঁ মোড় এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ শুরু করেন বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এসময় তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে রাজশাহীবাসী মুখিয়ে আছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে রাজশাহীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী। বেলা ১১ টার দিকে নগরীর আপেল ডেকোরেটরের মোড় পথসভা ও গণসংযোগ করেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং এলাকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন থাকলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

গণসংযোগ চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক প্রবীণ ব্যক্তি প্রার্থীকে কাছে পেয়ে দোয়া করেন এবং সমর্থনের আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে এলাকার ড্রেনেজ ব্যাবস্থার বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তারা অভিযোগ করেন, বহু রাস্তা সংস্কারের নামে অবহেলা ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে চলাচলে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানান তারা।