ভোটারদের দ্বারে প্রার্থীরা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীসহ এর আশপাশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দারে দারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন এবং বিজয়ী হলে নানা উন্নয়নের আশ্বাস দিচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন ভোটের আমেজ বিরাজ করছে।
রাজশাহী-০১: রাজশাহীর তানোরে মুন্ডুমালা পৌর জামায়াতের আয়োজনে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-১ তানোর গোদাগাড়ী আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। মুন্ডুমালা পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, সেক্রেটারি মোলাম মোর্তুজা, রাজশাহী জেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, রাজশাহী জেলা মসজিদ মিশন বিষয়ক সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রহমান ও জামায়াতের পশ্চিম জেলা সাবেক আমির আমিনুল ইসলাম।
রাজশাহী-০৩: রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি নওহাটা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এসময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তার সঙ্গে অংশ নেন। গণসংযোগের সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাকে দেখতে ও বক্তব্য শুনতে নারী-পুরুষের ভিড় দেখা যায়। অনেক প্রবীণ ব্যক্তি তাকে দোয়া করেন এবং সমর্থনের আশ্বাস দেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাদের এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তারা দাবি করেন, বিএনপি আমলে নির্মিত অনেক রাস্তা পরবর্তীতে সংস্কারের নামে অবহেলা ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে, ফলে তারা দুর্ভোগে আছেন। এ বিষয়ে মিলন নির্বাচিত হলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সুজন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজ, নওহাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের গণসংযোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গণসংযোগে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই পবা উপজেলা কাটাখালী পৌরসভা ও পারিলা ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান তিনি। সকাল ৮টায় শুরুতেই কাটাখালী বাজার এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়। পরে পারিলা ইউনিয়নের আশরাফের মোড়, হাট রামচন্দ্রপুর ও পারিলা বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন জামায়াত প্রার্থী। এসময় নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেন এবং ভোটারদের মধ্যে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করেন। পুরো এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নির্বাচনি আমেজ ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
রাজশাহী-০৪: বাগমারায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে বিজয়ের লক্ষ্যে ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ভবানীগঞ্জ গোডাউন মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাগমারা উপজেলা ছাত্রদল, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ও ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদল এবং তাহেরপুর পৌরসভা ও তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদল এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাগমারা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব উজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতিনিধি এবং রাজশাহী জেলা শ্রমিক দলের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ।
এদিকে একই আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী বাগমারার সোনাডাঙ্গা ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে গণসংযোগ করে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন। গণসংযোগকালে তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। গণসযোগকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগমারা উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার কামরুজ্জামান হারুন, সেক্রেটারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম, জামায়াতের রাজশাহী জেলা শাখার মজলিশে সূরার সদস্য আব্দুল আহাদ কবিরাজ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের অর্থ সম্পাদক ডা. আলমগীর হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সূরা সদস্য আশরাফুল হক ও উপজেলা জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারী আইনুল হক প্রমুখ।
রাজশাহী-০৫: রাজশাহী-৫ আসনে সকাল থেকে রাত পযন্ত প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মন্ডল। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নে সকাল থেকে প্রচারণা শুরু করেন তিনি। শুরুতে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় ও ভোট প্রার্থনা করেন। পরে নির্বাচনি প্রচার মিছিলে যোগ দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারণায় বিএনপির শতশত নেতাকর্মী অংশ নেয়। এর আগে নজরুল ইসলাম মন্ডল জানান,গত সতের বছর মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেনি। ভোট নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি জয়ী হলে এলাকায় মাদক,সন্ত্রাস বন্ধসহ বেকার যুবকদোর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সাথে এলাকার রাস্তাঘাট ও মসজিদ, মাদ্রাসাসহ সকল ধর্মীয় উপসানলয়গুলোর উন্নয়ন করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০২: গতকাল শনিবার দিনব্যাপী গোমস্তাপুর উপজেলার বাংগাবাড়ি ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ আমিনুল ইসলাম। তিনি বাংগাবাড়ি বাজার, তেলিপাড়া, বাজার, শিবরামপুর, ঘুগিয়া, নাসির বাজার, ভবানিপুর, ইসলামপুর ও সন্তোষপুর বাজারসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ধানের শীষের ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন এবং পরে তিনি বাংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে কর্মিসভায় নেতাকমীদের প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহল্লায় মা বোনদের ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য আকুল আবেদন করতে বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ মাসুম, সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম তুহিন, বাংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সারিকুল ইসলাম (সাদ্দাম), সাবেক মহিলাভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নেসা বাবলি প্রমুখ।
নওগাঁ-০১: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁর পোরশায় নিজ নিজ দলীয় প্রার্থীদের জেতানোর জন্য প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতারা গণসংযোগ করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তারা দিনরাত পোরশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-১ আসন। আসনটিতে ৫ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিএনপি বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা, ছালেক চৌধুরীকে নিয়ে। দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানকে জেতানোর জন্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি তৌফিকুর রহমান চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লায়ন মাসুদ রানা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পোরশার হাটবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ ও নির্বাচনি প্রচারণা এবং জনসভা অব্যাহত রেখেছেন। বিএনপির ঘাটি খ্যাত এই আসনে তারা বিপুল ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। গণসংযোগকালে মোস্তাফিজুর রহমানসহ নেতারা স্থানীয় ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়সহ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার আলোকে দেশ পরিচালনায় নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন। অপরেিদক, গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সতন্ত্র প্রার্থী ডা, ছালেক চৌধুরীও। সাবেক তিন বারের বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে তিনি এলাকায় উপস্থিত হয়ে ভোট চাচ্ছেন এবং তার সময়ের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে। তিনি আশা করছেন তার অতীতকে দেখে ভোটাররা তাকে বিজয়ী করবেন। এছাড়াও জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী মাওঃ আব্দুল হক শাহ স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে দিনরাত গণসংযোগ ও জনসভা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাটোর-০১: নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপুকে বিজয়ী করতে এক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক ও বঞ্চিত নেতারা। গতকাল শনিবার বিকেলে লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার কড়ইতলায় আয়োজিত এক সমাবেশে তারা টিপুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে এবং আব্দুলপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আরিফুল ইসলাম আরিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন—গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বিমল, লালপুর থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুল্লাহ বিশ্বাস গ্যাদা, বাগাতিপাড়া উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনসার আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বঞ্চিত নেতারা।











