ঢাকা | জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ - ৫:০৮ পূর্বাহ্ন

নগরীতে প্রতারণার শিকার হয়ে রিকশা খোয়ালেন চালক

  • আপডেট: Sunday, January 25, 2026 - 12:04 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীতে সুকৌশলে এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যক্তির রিকশা ছিনতাই করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ওই রিকশাচালক এ বিষয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার শিকার হয়ে রিকশা হারানো সেই ব্যক্তির নাম বাহাদুর আলী (৩৩)। বাহাদুরের পৈত্রিক ঠিকানা পাশের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হলেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নগরীর রাজপাড়া এলাকার চন্ডিপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। বর্তমানে তিনি সেখানকারই স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বাহাদুরের বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক।

অভিযোগে বাহাদুর উল্লেখ করেন, চন্ডিপুরের আরেক বাসিন্দা রফিক (৫০) তার পূর্বপরিচিত। গত বছরের ১২ আগস্ট আনুমানিক রাত সাড়ে নয়টায় বাহাদুরকে ফোন করে নগরীর মহিষবাথান এলাকার ঠেঙ্গামারা অফিসের সামনে ডাকেন রফিক। রফিক পরিচিত মানুষ হওয়ায় কোনোকিছু না ভেবেই তথা এক প্রকার সরল বিশ্বাসে নিজের কাছে থাকা অটোরিকশাটি নিয়ে সেখানে পৌঁছান বাহাদুর আলী।

এসময় রফিক বাহাদুরকে ভাড়ায় যাওয়ার কথা বলে নগরীর কারিতাস মোড়ের একটি এনজিও’র সামনে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর রফিক বাহাদুরকে রিকশার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে বলে নিজে এনজিও’র ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় বাহাদুরও ‘নেতিবাচক’ কিছু না ভেবে রফিকের জন্য রিকশার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন।

এর এক পর্যায়ে কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি অত্যন্ত কৌশলে বাহাদুরকে বোকা বানিয়ে তার রিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে পালাতে থাকে। এসময় বাহাদুর তার পরিচিত সেই ব্যক্তি রফিককে ডাকলে তার মনোভাব এবং কথাবার্তা শুনে টের পান, তার রিকশা ছিনতাইয়ের পেছনের পরিকল্পনাকারী এই রফিক নিজেই। এসময় বাহাদুর তার সঙ্গে এই বিষয়ে একাধিকবার কথা বলতে চাইলেও অভিযুক্ত রফিক তাকে কোনপ্রকার পাত্তা না দিয়েই এড়িয়ে চলতে থাকেন।

এ ঘটনায় রফিক গত বছরের আগস্ট মাসেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্তও থানা পুলিশ তার রিকশাটি উদ্ধার করতে পারেনি।

পরে বাহাদুর আবারও গত ১৫ জানুয়ারি রাজপাড়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বাহাদুর জানান, রিকশাটি তিনি ঋণ করে ক্রয় করেছিলেন। এখনও তিনি সেই ঋণ শোধ করছেন। কিন্তু ঘটনার পাঁচ মাসেও তার রিকশাটি উদ্ধার না হওয়ার কারণে তিনি এক রকম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রশাসনের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ জানায়, তারা অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত চলছে। তারা বাহাদুরের সেই রিকশাটি উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।